খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 31শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৫ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বেতন দশম গ্রেডে উন্নীত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই) প্রস্তাব প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এই বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় ৩৪১ কোটি ৪৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা।
সূত্র জানিয়েছে, ডিপিই থেকে পাঠানো প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে যাবে। অনুমোদন পেলেই অফিস আদেশ জারি করে কার্যক্রম শুরু করা হবে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পলিসি ও অপারেশনস) মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, রোববার প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে শুধুমাত্র আদালতের রিটকারী ৪৫ জন শিক্ষকই নয়, বরং সব প্রধান শিক্ষকের বেতন গ্রেড দশমে উন্নীত করা যাবে।
বাস্তবায়ন কবে নাগাদ হতে পারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট দিনক্ষণ বলা সম্ভব নয়, তবে আমরা আন্তরিকভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের মোট পদ রয়েছে ৬৫ হাজার ৫০২টি, যার মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৩২ হাজার ৩৫২ জন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন উচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ৪৫ জন রিটকারী শিক্ষকের বেতন ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে অফিস আদেশ জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়। এর আগে ১৩ জুন হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশনা বহাল রাখে আপিল বিভাগ, যেখানে সকল প্রধান শিক্ষককে দশম গ্রেডে এবং দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করার ঘোষণা দেন। যদিও পরে প্রজ্ঞাপন জারি করেও প্রশিক্ষিতদের জন্য ১১তম ও অপ্রশিক্ষিতদের জন্য ১২তম গ্রেড নির্ধারণ করা হয়, যা বৈষম্যমূলক হিসেবে চিহ্নিত করে ৪৫ জন শিক্ষক আদালতের দ্বারস্থ হন।
খবরওয়ালা/টিএস