খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৪ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
লোকসংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন আর নেই। দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতাসহ নানা রোগভোগের পর শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
মৃত্যুর সময় হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন স্বামী, সন্তান ও ঘনিষ্ঠজনেরা। আইসিইউর করিডরে তখন নীরবতা, বাইরে ভিড় জমেছিল স্বজন, ভক্ত ও সংবাদকর্মীদের। হাসপাতালের বিছানায় শায়িত ছিলেন নিথর ফরিদা পারভীন। পাশে ছিলেন স্বামী বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম, দুই সন্তান এম আই নাহিল ও জিহান ফারিয়া।
লালনসংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীনের দাফন নিয়ে শুরুতে দ্বিধা তৈরি হয়েছিল তাঁর পরিবারে। স্বামী বংশীবাদক গাজী আবদুল হাকিম চেয়েছিলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে শিল্পীকে মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হোক। অন্যদিকে দুই সন্তান এম আই নাহিল ও জিহান ফারিয়ার জোর দাবি ছিল—তাদের মাকে কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত করতে হবে।
হাসপাতালের ভেতরে ঘণ্টাখানেক আলোচনা চলে এ নিয়ে। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা শিল্পীর অসিয়তকে প্রাধান্য দেন। ছেলেও জানান, ফরিদা পারভীন লিখিতভাবেই বলে গিয়েছিলেন, মৃত্যুর পর তাঁকে যেন কুষ্টিয়ায় বাবা-মায়ের কবরেই সমাহিত করা হয়। সন্তানদের এই অবস্থান মেনে নেন গাজী আবদুল হাকিমও।
ফলে সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকায় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে, বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জানাজা হবে, তবে চিরনিদ্রার ঠিকানা হবে কুষ্টিয়া। রোববার বাদ মাগরিব কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে বাবা দেলোয়ার হোসেন ও মা রওফা বেগমের পাশে ফরিদা পারভীনকে শায়িত করার সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্বামী–সন্তানের মতবিরোধের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত ফরিদা পারভীনের নিজের ইচ্ছাই হয়েছে চূড়ান্ত।
কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে ইতিমধ্যেই তাঁর বাবা-মায়ের কবরের পাশে নতুন কবর খোঁড়া হয়েছে। খাদেম নূর ইসলাম জানান, ‘১৯৯৬ সালে ফরিদার বাবা দেলোয়ার হোসেন ও পরে তাঁর মা রওফা বেগমকে একই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। আজ ফরিদার মরদেহও সেখানে শায়িত করা হবে।’
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়া থানায় জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে লালনসংগীতকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে ‘এই পদ্মা এই মেঘনা’, ‘তোমরা ভুলে গেছো মল্লিকাদির নাম’, ‘নিন্দার কাঁটা’র মতো গান আজও সমান জনপ্রিয়। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গানে গানে বেঁচেছিলেন এই শিল্পী।
তিনি স্বামী গাজী আবদুল হাকিম ও চার সন্তান রেখে গেছেন। ফরিদা পারভীনের মৃত্যুতে বাংলা সংগীত জগত হারাল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম হারাল এক অনন্য কণ্ঠস্বর।
খবরওয়ালা/এন