খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে মাঘ ১৪৩২ | ৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ব্যাটিংয়ে একক আধিপত্য দেখাল ভারত। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ভারত তোলে ৪১১ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ—অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে যা বিরল উচ্চতায় পৌঁছানো এক স্কোর। এই ঐতিহাসিক ইনিংসের কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন ১৪ বছর বয়সী ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। বয়সের তুলনায় পরিণত ব্যাটিং, নিখুঁত টাইমিং আর শক্তিশালী স্ট্রোকপ্লে দিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণকে কার্যত ভেঙে চুরমার করে দেন।
বৈভবের সেঞ্চুরি আসে মাত্র ৫৫ বলে—ফাইনালের মঞ্চে দ্রুততম শতরান। শতরানের পথে তিনি সমান ৮টি করে চার ও ছক্কা হাঁকান। সেঞ্চুরির পরেও থামেননি; ৭১ বলেই পৌঁছে যান দেড়শ রানে। শেষ পর্যন্ত ৮০ বলে ১৭৫ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কা। ম্যানি লুমসডেনের বলে আউট হওয়ার আগে তাঁর ইনিংস ছিল বিস্ফোরক আক্রমণ ও সংযমী নির্মাণ—দুটোরই অনন্য সমন্বয়।
এই ইনিংসে বৈভব একসঙ্গে ভেঙেছেন চারটি বড় রেকর্ড। তিনি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান; ফাইনালে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের মালিক; একটি ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ড গড়েছেন; এবং টুর্নামেন্টে মোট ছক্কার সংখ্যায়ও শীর্ষে উঠেছেন। পাশাপাশি, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। ফাইনালে সেঞ্চুরি করা তৃতীয় ভারতীয় হিসেবে তিনি উনমুক্ত চাঁদ ও মনজোত কালরার পাশে নিজের নাম লেখালেন।
ভারতের দলীয় স্কোর ৪১১/৯—ফাইনালের চাপের ম্যাচে এমন সংগ্রহ ইংল্যান্ডের সামনে কার্যত অসম্ভব চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বৈভবের ইনিংস কেবল রানতাড়নার ব্যবধান বাড়ায়নি, ইংল্যান্ডের বোলারদের মানসিকতাতেও স্পষ্ট চাপ সৃষ্টি করেছে। তাঁর স্ট্রাইক রোটেশন, মিডউইকেট ও লং-অন অঞ্চলে শক্তিশালী ছক্কা এবং কভার-ড্রাইভের ধারাবাহিকতায় দর্শকরা দেখেছেন আধুনিক টি-টোয়েন্টি প্রভাবিত, তবে ওয়ানডে-সচেতন ব্যাটিংয়ের নিখুঁত প্রদর্শনী।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরি (বল অনুসারে)
| স্থান | ব্যাটার (দল) | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | বছর | বল |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | উইল মালাজচুক (অস্ট্রেলিয়া) | জাপান | উইন্ডহোক | ২০২৬ | ৫১ |
| ২ | বৈভব সূর্যবংশী (ভারত) | ইংল্যান্ড | হারারে | ২০২৬ | ৫৫ |
| ৩ | কাসিম আকরাম (পাকিস্তান) | শ্রীলঙ্কা | নর্থ সাউন্ড | ২০২২ | ৬৩ |
| ৪ | বেন মেস (ইংল্যান্ড) | স্কটল্যান্ড | হারারে | ২০২৬ | ৬৫ |
| ৫ | রাজ বাওয়া (ভারত) | উগান্ডা | তাকবা | ২০২২ | ৬৯ |
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে সেঞ্চুরি
| রান | ব্যাটার (দল) | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | বছর |
|---|---|---|---|---|
| ১৭৫ | বৈভব সূর্যবংশী (ভারত) | ইংল্যান্ড | হারারে | ২০২৬ |
| ১১১* | উনমুক্ত চাঁদ (ভারত) | অস্ট্রেলিয়া | টাউনসভিল | ২০১২ |
| ১০৮ | ব্রেট উইলিয়ামস (অস্ট্রেলিয়া) | পাকিস্তান | অ্যাডিলেড | ১৯৮৮ |
| ১০৭ | স্টিফেন পিটার্স (ইংল্যান্ড) | নিউজিল্যান্ড | জোহানেসবার্গ | ১৯৯৮ |
| ১০০ | জারাদ বার্ক (অস্ট্রেলিয়া) | দক্ষিণ আফ্রিকা | লিঙ্কন | ২০০২ |
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের এক ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কা
| ছক্কা | ব্যাটার (দল) | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | বছর |
|---|---|---|---|---|
| ১৫ | বৈভব সূর্যবংশী (ভারত) | ইংল্যান্ড | হারারে | ২০২৬ |
| ১২ | মাইকেল হিল (অস্ট্রেলিয়া) | নামিবিয়া | পেনাং | ২০০৮ |
| ১১ | ক্রেগ সিমন্স (অস্ট্রেলিয়া) | কেনিয়া | ডুনেডিন | ২০০২ |
এক আসরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে সর্বাধিক ছক্কা
| মোট ছক্কা | ব্যাটার | বছর |
|---|---|---|
| ৩০ | বৈভব সূর্যবংশী | ২০২৬ |
| ১৮ | ডিওয়াল্ড ব্রুইস | ২০২২ |
| ১৮ | ফিন অ্যালেন | ২০১৬ ও ২০১৮ |
| ১৫ | জ্যাক বার্নহাম | ২০১৬ |
| ১৪ | মাইকেল হিল | ২০০৮ |
| ১৪ | নিকোলাস পো | ২০১৪ |
এই পারফরম্যান্সে বৈভব সূর্যবংশী কেবল একটি ফাইনাল জেতানোর ভিত গড়েননি, অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ীভাবে খোদাই করে দিয়েছেন। ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর যাত্রাপথ যে আলোচনায় থাকবে—এই ফাইনাল তারই জোরালো পূর্বাভাস।