ফিলিস্তিন রাষ্ট্র ছাড়া ইসরায়েলের স্বীকৃতি নয় সৌদি–পাকিস্তানের অবস্থান
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি “স্পষ্ট ও অপরিবর্তনীয় পথ” নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করবে না সৌদি আরব। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে দেশটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব দীর্ঘদিনের নীতিগত অবস্থানেই অনড় রয়েছে। রিয়াদের অবস্থান অনুযায়ী, ইসরায়েলের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক স্থাপন অবশ্যই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বাস্তব অগ্রগতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকতে হবে। অর্থাৎ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের স্পষ্ট রূপরেখা ছাড়া স্বীকৃতি বা স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কের সম্ভাবনা নেই।
এই অবস্থানটি এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক মন্তব্য করেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইঙ্গিত দেন যে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে একটি চুক্তি হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং অন্যান্য রাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার “আব্রাহাম অ্যাকর্ডস”-এ যুক্ত হতে পারে।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে এমন সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে যা “ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী” হবে। এর আগে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণের বিষয়ে নতুন করে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সিএনএনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরের নভেম্বর মাসে এক বৈঠকে ট্রাম্প সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদানের বিষয়ে অনুরোধ করেন। জবাবে সৌদি ক্রাউন প্রিন্স স্পষ্ট করেন, রিয়াদ এই চুক্তিতে যুক্ত হতে আগ্রহী হলেও তার শর্ত হলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট রূপরেখা এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের বাস্তব অগ্রগতি।
মোহাম্মদ বিন সালমান ওই আলোচনাকে “গঠনমূলক” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং জানান, লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করতে সৌদি আরব আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
এদিকে পাকিস্তানের অবস্থানও একই ধরনের কূটনৈতিক নীতির প্রতিফলন হিসেবে সামনে এসেছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দেওয়া উচিত নয়। পাকিস্তানি গণমাধ্যম সামা টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এমন কোনো চুক্তিতে যোগ দেওয়া পাকিস্তানের “মৌলিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক”।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের নীতি অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমানার ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ছাড়া ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। ৭৮ বছরের ইতিহাসে পাকিস্তান কখনোই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি। এর ফলে পাকিস্তানি পাসপোর্টধারীদের জন্য ইসরায়েল ভ্রমণও নিষিদ্ধ রয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন আব্রাহাম অ্যাকর্ডস সম্প্রসারণে চাপ বাড়ালেও ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৌদি আরব ও পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন পাকিস্তানের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশগুলোর কাছ থেকে ইসরায়েলের স্বীকৃতি আদায় করা ওয়াশিংটনের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।