খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১৯ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন আহমদকে ঘিরে কটূক্তিমূলক বক্তব্যের জেরে কক্সবাজার ও চকরিয়ায় উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে ফের সেনাবাহিনীর পাহারায় সমাবেশস্থল ত্যাগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।
শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে এনসিপির এক সমাবেশে সংগঠনের মুখ্য সংগঠক নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদকে ইঙ্গিত করে বলেন, শুনছি কক্সবাজারে নব্য গডফাদার শিলং থেকে এসেছে। ঘের দখল করছে। মানুষের জায়গা জমি দখল করছে। চাঁদাবাজি করছে।
নাম না বললাম এমন উক্তি করে নাসীরুদ্দীন বলেন, আবার নাকি সে সংস্কার বুঝেনা। কক্সবাজারের জনতা এধরণের সংস্কার বিরোধী, যে পিআর বোঝে না, রাজপথে তাদেরকে ঠেকিয়ে দেব ইনশাআল্লাহ।
পাটোয়ারীর এসব বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপরই কক্সবাজার শহর ও চকরিয়ায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যুবদল বিক্ষোভ মিছিল করে এবং কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। এনসিপির বক্তব্যের প্রতিবাদে জেলা বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদল শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ করে।
একই সময়ে চকরিয়ার রামু ও ঈদগাঁও উপজেলার এনসিপির পথসভাস্থলেও হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ বিএনপি কর্মীরা। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে চকরিয়া উপজেলার জনতা শপিং সেন্টারে স্থাপিত স্টেজ ভেঙে ফেলেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এ সময় মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এনসিপির নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক বলেন, ‘এনসিপি নেতার উদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য চকরিয়ার মানুষ মেনে নেয়নি। তিনি অবিলম্বে ক্ষমা না চাইলে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া হবে।’
ঘটনার সময় এনসিপি নেতারা মহাসড়কের ফাঁশিয়াখালী আর্মি ক্যাম্প এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে সেনাবাহিনী সাঁজোয়া যান (এপিসি) নিয়ে তাদের কক্সবাজার জেলার বাইরে নিরাপদে সরিয়ে দেয়।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ‘এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাহারায় কক্সবাজার জেলা পার করে দেওয়া হয়েছে।’
এর আগে, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জেও সংঘর্ষের জেরে সেনাবাহিনীর এপিসিতে করে সমাবেশস্থল ত্যাগ করেছিলেন এনসিপি নেতারা।
ঘটনার পর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নাসিরউদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। কক্সবাজার জেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
খবরওয়ালা/এন