খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একইসঙ্গে অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধ থাকবে। এই সিদ্ধান্তকে ‘অযৌক্তিক ও নাগরিক অধিকারবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার না হলে ইসি ঘেরাওয়ের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মোহাম্মদপুর ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় নাহিদ ইসলাম বলেন, ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা ভোটারদের ওপর অযাচিত নিয়ন্ত্রণ আরোপের শামিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন যদি সন্ধ্যার মধ্যে এ সিদ্ধান্ত সংশোধন না করে, তবে পরদিন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হলে অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর মতো পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
ইসি সূত্রে জানা যায়, রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় সারা দেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এই বিধিনিষেধ বাস্তবায়নের নির্দেশ পাঠানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণভাবে কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে কিছু কর্মকর্তা ও সদস্যকে এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে ছবি বা ভিডিও ধারণ করে গোপন ব্যালটের নীতি লঙ্ঘন, গুজব ছড়ানো কিংবা অনলাইন প্রভাব বিস্তারের ঝুঁকি কমাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর মতে, নির্বাচনী পরিবেশে অনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল কার্যক্রম অনেক সময় উত্তেজনা বাড়ায় এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় বাধা সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের একাংশের অভিযোগ—মোবাইল ফোন নিষেধাজ্ঞা ভোটারদের তথ্যপ্রাপ্তি ও যোগাযোগের স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, পরিবহন সংক্রান্ত তথ্য জানা কিংবা অসুস্থতার ক্ষেত্রে সহায়তা চাওয়ার সুযোগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
ভোটকেন্দ্র এলাকায় মোবাইল বহন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের মূল দিকগুলো নিচের ছকে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিধান |
|---|---|
| প্রযোজ্য এলাকা | ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধ |
| কারা ফোন বহন করতে পারবেন না | সাধারণ ভোটার ও দর্শনার্থী |
| কারা ছাড় পাবেন | প্রিসাইডিং অফিসার, কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ, ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী অঙ্গীভূত আনসার, সাধারণ আনসার ও ভিডিপির দুজন সদস্য |
| কার্যকারিতা শুরু | নির্বাচনের দিন (১২ ফেব্রুয়ারি) |
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা অনেকটাই নির্ভর করছে কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়ার ওপর। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ যেমন প্রয়োজনীয় হতে পারে, তেমনি ভোটারদের আস্থা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।