খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১০ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়কে আরও শক্তিশালী ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। নারীপ্রধান পরিবারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সরকারের এই পরীক্ষামূলক উদ্যোগটি দেশের অর্থনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামীকাল সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই মহতী কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন।
সোমবার বিকেলে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। প্রাথমিকভাবে ৩৭,৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে মাসিক ২,৫০০ টাকা হারে এই ভাতা প্রদান করা হবে। সুবিধাভোগীরা তাদের পছন্দ অনুযায়ী মোবাইল ব্যাংকিং বা সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ঘরে বসেই এই অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন।
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়েছে। ডিজিটাল ডেটাবেজ এবং আধুনিক সফটওয়্যার ব্যবহার করে দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করা হয়েছে। কোনো প্রকার রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই মাঠ পর্যায়ে তথ্যানুসন্ধান চালিয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
নিচে কার্ড প্রদানের জন্য তথ্য যাচাই ও বাছাই প্রক্রিয়ার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| ধাপের নাম | কার্যক্রমের বিবরণ |
| তথ্য সংগ্রহ | দেশের ১৩টি জেলার নির্দিষ্ট এলাকায় ৬৭,৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ। |
| প্রাথমিক যাচাই | সফটওয়্যারের মাধ্যমে দারিদ্র্য সূচক বিশ্লেষণ করে ৫১,৮০৫টি পরিবার শনাক্ত। |
| ফিল্ড ভেরিফিকেশন | বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহস্থালি সামগ্রী, আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহ যাচাই। |
| চূড়ান্ত নির্বাচন | দ্বৈত ভাতা বা সরকারি চাকরিজীবীদের বাদ দিয়ে ৩৭,৫৬৭টি পরিবার চূড়ান্ত। |
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের দেওয়া তথ্যমতে, প্রতিটি পরিবারকে একটি অত্যাধুনিক ও টেকসই স্মার্ট কার্ড প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের ৫ জন সদস্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুবিধা ভোগ করবেন। যদি কোনো একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৫ এর বেশি হয়, তবে আনুপাতিক হারে কার্ড সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে। আগামী জুন মাস পর্যন্ত এই প্রকল্পের জন্য ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সব নারীপ্রধান পরিবার এই ভাতার আওতায় আসবে না। সরকার কিছু নির্দিষ্ট শর্তারোপ করেছে যাতে প্রকৃত অভাবী মানুষই এই সুবিধা পান। অযোগ্যতার উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো:
পরিবারের কোনো সদস্য যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন।
পরিবার প্রধান যদি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা কর্মচারী হন।
পরিবারের নামে বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বিলাসবহুল গাড়ি, এসি বা ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকলে।
পরিবার প্রধান যদি ইতিমধ্যে অন্য কোনো ব্যক্তিগত সরকারি ভাতা ভোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও জুনের পর এর পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হবে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশ্বাস দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে কেবল নারীপ্রধান নয়, বরং দরিদ্র পুরুষপ্রধান পরিবারগুলোকেও এই কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি যোগ্য নাগরিক যাতে সামাজিক নিরাপত্তার এই ছাতার নিচে আসতে পারেন, সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এ উত্তরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল দেশ।