খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১৪ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের জীবন বিমা খাত বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকদের বৈধ বিমা দাবি যথাসময়ে পরিশোধ না করায় এই খাতে আস্থার সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে উত্থাপিত মোট বিমা দাবির প্রায় ৬৫ শতাংশই পরিশোধ করতে পারেনি জীবন বিমা কোম্পানিগুলো, যা পুরো খাতের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর সময়কালে দেশের ৩৬টি জীবন বিমা কোম্পানিতে মোট পাঁচ হাজার ৯৮৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকার বিমা দাবি উত্থাপিত হয়েছে। এর বিপরীতে পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র দুই হাজার ১০৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ফলে বকেয়া রয়ে গেছে তিন হাজার ৮৮০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, যা মোট দাবির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ।
এই বিপুল বকেয়ার পেছনে মূলত সাতটি কোম্পানির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রোগ্রেসিভ লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, হোমল্যান্ড লাইফ, বায়রা লাইফ ও সান লাইফ—এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় সব দাবিই বকেয়া অবস্থায় পড়ে আছে। শুধু এই সাতটি কোম্পানির বকেয়াই তিন হাজার ৫৭১ কোটি ৯০ লাখ টাকা, যা মোট বকেয়ার ৯০ শতাংশেরও বেশি।
সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে। প্রতিষ্ঠানটিতে দুই হাজার ৮১৫ কোটি টাকার বিমা দাবি উত্থাপিত হলেও পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ৩৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৯৯ শতাংশ দাবি অপরিশোধিত রয়ে গেছে। একই রকম চিত্র বায়রা লাইফ, পদ্মা ইসলামী লাইফ ও সানফ্লাওয়ার লাইফেও।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুটিকয়েক কোম্পানির এই দায়িত্বহীন আচরণ পুরো বিমা খাতের পরিবেশ নষ্ট করছে। প্রগতি লাইফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জালালুল আজিম মনে করেন, যতদিন এসব কোম্পানি গ্রাহকের টাকা পরিশোধে সক্ষম না হবে, ততদিন তাদের নতুন পলিসি ইস্যুর অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে। আলফা লাইফ, এলআইসি বাংলাদেশ, মার্কেন্টাইল লাইফ ও সোনালী লাইফ শতভাগ দাবি পরিশোধ করে ইতিবাচক উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এসব কোম্পানি প্রমাণ করেছে, সুশাসন ও আর্থিক শৃঙ্খলা থাকলে বিমা দাবি পরিশোধ সম্ভব।
এই পরিস্থিতিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নইলে জীবন বিমা খাতের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়বে।