খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ আগস্ট ২০২৫
রাশিয়া থেকে তেল আমদানির বিষয়ে ভারতকে আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (৪ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে তা খোলা বাজারে বিক্রি করায় ভারতের বিরুদ্ধে শিগগিরই নতুন করে শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়েছে নয়াদিল্লি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় ভারত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিকল্পিতভাবে ভারতকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে, যা শুধু অযৌক্তিকই নয়, বরং সম্পূর্ণ অন্যায্য।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জ্বালানি চাহিদা পূরণে প্রথমে রাশিয়ার ওপর নির্ভর করে। ফলে বিশ্বের অন্য প্রান্তে জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল রাখতে রাশিয়া থেকে তেল কেনে ভারত। তখন এই আমদানিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থনও করেছিল।
বিবৃতিতে পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানানো হয়, শুধু ২০২৪ সালেই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৬৭ হাজার ৫০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়েছে। ২০২৩ সালে এই অঙ্ক ছিল ১৭ হাজার ২০০ কোটি ইউরো, যা ভারত-রাশিয়া বাণিজ্যের তুলনায় বহু গুণ বেশি।
এছাড়া, চলতি বছর ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির পরিমাণ পৌঁছেছে ১৬৫ লাখ টনে, যা ২০২২ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। শুধু জ্বালানিই নয়, রাশিয়া থেকে সার, খনিজ, রাসায়নিক, ইস্পাতসহ নানা ধরনের যন্ত্রপাতিও আমদানি করছে ইউরোপের দেশগুলো। যুক্তরাষ্ট্রও রাশিয়া থেকে পারমাণবিক শিল্পে ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড, প্যালাডিয়াম ও বিভিন্ন রাসায়নিক পণ্য কিনছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সাফ জানায়, দেশটির বিরুদ্ধে এমন নীতি দ্বিমুখী ও অবিচারসুলভ। ভারতের মতো বড় অর্থনীতি নিজের স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় ভবিষ্যতেও যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত থাকবে।
খবরওয়ালা/টিএসএন