খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১০ আগস্ট ২০২৫
বগুড়ায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আয়োজিত গণশুনানিতে অভিযোগ গ্রহণ না করায় ক্ষোভে এক ব্যক্তি মঞ্চ লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেছেন। রবিবার (১০ আগস্ট) দুপুরে শহীদ টিটু মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, জুতা নিক্ষেপকারী সাখাওয়াত হোসেন মণ্ডল (৬৫) পেশায় মৎস্যচাষি। তার বাড়ি সোনাতলা উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা ও ক্ষয়ক্ষতির নানা ঘটনায় তিনি থানাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সেনাপ্রধানের দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। এমনকি মানবাধিকার কমিশন তার পক্ষে রায় দিলেও বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যানের চাঁদা না দেওয়ায় তার বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং তিনটি জলাশয় থেকে প্রায় ২১ লাখ টাকার মাছ লুট করে নেওয়া হয়। এসব বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও সুরাহা হয়নি। শেষ চেষ্টা হিসেবে তিনি দুদকের গণশুনানিতে অভিযোগ জমা দিতে আসেন। কিন্তু সেখানেও অভিযোগ উত্থাপনের সুযোগ না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে মঞ্চ লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জেলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। জুতা নিক্ষেপ করলে জেলে যেতে হবে—এটা আমি জানি।’
ঘটনার পর উপস্থিত কর্মকর্তারা তাকে মিলনায়তন থেকে বের করে দেন। তবে পরে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নির্দেশে তাকে আবার ভিতরে নিয়ে এসে বসতে দেওয়া হয়।
এ সময় দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘দুর্নীতি আমাদের মধ্যেও আছে, আচরণেও সমস্যা আছে। তবে জনগণের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে এসব সমাধান করা হবে।’ তিনি কর্মকর্তাদের কার্যক্রমে নজর রাখার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী এ গণশুনানিতে সরকারি ও বেসরকারি ৩২টি দপ্তরের বিরুদ্ধে ৯৭টি অভিযোগ জমা পড়ে, এর মধ্যে ৫৭টি সরাসরি শুনানি হয়। সবচেয়ে আলোচিত হয় ‘প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি অবৈধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ, যা অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম চালাচ্ছিল। চেয়ারম্যানের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটির কথিত দুই কর্মকর্তা রাব্বি ও সোহেলকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করে পুলিশ।
এছাড়া পদ্মা ইন্স্যুরেন্সের স্থানীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি আদেশ দেওয়া হয়। শুনানিতে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের চারলেন উন্নীতকরণ প্রকল্প এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঙালি নদী খনন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগও ওঠে, যেগুলো অনুসন্ধানের নির্দেশ দেন দুদক চেয়ারম্যান।
শুনানির সমাপনী বক্তব্যে ড. মোমেন বলেন, ‘দুর্নীতি করার জন্য ঘুষ দিতে হয়। যদি ঘুষ না দেন, তবে একসময় কাজ ঘুষ ছাড়াই হবে। কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের বিকল্প নেই—তাদের কাজ করতেই হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুদকের মহাপরিচালক আকতার হোসেন, রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক ফজলুল হক, বগুড়ার জেলা প্রশাসক হোসনা আফরোজা, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা এবং উপ-পরিচালক মাহফুজ ইকবাল। স্থানীয় নাগরিকরা দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান।
খবরওয়ালা/এন