খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা বর্ণবাদের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুনর্ব্যক্ত করে একটি কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার অভিযোগে বেনফিকার তরুণ আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নিকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বুধবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ফিরতি লেগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে মাঠে নামতে পারছেন না তিনি।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম লেগের ম্যাচে রিয়াল মাদ্রিদ জয়লাভ করার পর ভিনিসিয়ুস জুনিয়র মাঠেই অভিযোগ করেন যে, প্রেসতিয়ান্নি তাকে লক্ষ্য করে কুরুচিপূর্ণ বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। ম্যাচ চলাকালীন উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে ভিনিসিয়ুসের একমাত্র গোলের পর প্রায় ১০ মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। অভিযোগ উঠেছে, প্রেসতিয়ান্নি নিজের জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে অত্যন্ত গোপনে এই গালিগালাজ করেন যাতে রেফারি বা ক্যামেরায় তা ধরা না পড়ে।
উয়েফা আজ এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “আমরা মিস্টার জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নিকে উয়েফা ক্লাব প্রতিযোগিতায় পরবর্তী ম্যাচের জন্য সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। একজন নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা পরিদর্শক নিয়োগ করা হয়েছে যিনি এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করবেন।” তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রেসতিয়ান্নির জন্য আরও দীর্ঘমেয়াদী এবং কঠোর শাস্তির ঘোষণা আসতে পারে।
ম্যাচ পরবর্তী সময়ে রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ভিনিসিয়ুসের দাবির সপক্ষে সরাসরি সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার মতে, প্রেসতিয়ান্নি অন্তত পাঁচবার ভিনিসিয়ুসকে ‘বানর’ বলে সম্বোধন করেছেন। অন্যদিকে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এক পোস্টে লেখেন, “বর্ণবাদীরা আসলে কাপুরুষ। তাদের নিজেদের হীনম্মন্যতা ঢাকতে জার্সি দিয়ে মুখ লুকোতে হয়।”
নিচে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রধান দিকগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| অভিযুক্ত খেলোয়াড় | জিয়ানলুকা প্রেসতিয়ান্নি (বেনফিকা) |
| অভিযোগকারী | ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ) |
| সাক্ষী | কিলিয়ান এমবাপ্পে |
| প্রাথমিক শাস্তি | এক ম্যাচের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা (ফিরতি লেগ) |
| সম্ভাব্য সর্বোচ্চ শাস্তি | অন্তত ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা (প্রমাণিত হলে) |
| তদন্তকারী সংস্থা | উয়েফা ডিসিপ্লিনারি বডি |
বেনফিকা কর্তৃপক্ষ তাদের খেলোয়াড়ের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। পর্তুগিজ ক্লাবটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, তারা তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবে, তবে প্রেসতিয়ান্নি কোনো পরিকল্পিত ‘ষড়যন্ত্রের’ শিকার কি না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রেসতিয়ান্নি নিজে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে, ভিনিসিয়ুস সম্ভবত ভুল শুনেছেন। তিনি পাল্টি অভিযোগ করেছেন যে, রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা তাকে মাঠেই হুমকি দিয়েছেন।
উয়েফার আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ফুটবলারের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের প্রমাণ মেলে, তবে তাকে ন্যূনতম ১০ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একাধিকবার স্প্যানিশ লিগ ও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় বর্ণবাদের শিকার হয়েছেন, যা ফুটবল বিশ্বে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রেসতিয়ান্নির বিরুদ্ধে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা অন্যান্য খেলোয়াড়দের জন্য একটি কড়া সতর্কবার্তা। রিয়াল মাদ্রিদ ও বেনফিকার মধ্যকার আসন্ন ম্যাচটি এখন কেবল ফুটবলের লড়াই নয়, বরং বর্ণবাদ বিরোধী চেতনার এক অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।