খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
২০২৬ সালের নতুন বছরকে বরণ করে নিতে যখন বিশ্বজুড়ে প্রস্তুতি চলছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে এক ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা রুখে দেওয়ার দাবি করেছে দেশটির আইন মন্ত্রণালয়। গত শুক্রবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ১৮ বছর বয়সী এক যুবক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে এই হামলার ছক কষেছিলেন। সময়মতো পদক্ষেপ নেওয়ায় সম্ভাব্য একটি রক্তক্ষয়ী ট্র্যাজেডি থেকে রক্ষা পেয়েছে সাধারণ মানুষ।
বিবৃতি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম ক্রিশ্চান স্টারডিভ্যান্ট। তিনি নর্থ ক্যারোলাইনার মিন্ট হিল এলাকার বাসিন্দা। এফবিআই-এর তদন্তে উঠে এসেছে যে, স্টারডিভ্যান্ট কোনো আগ্নেয়াস্ত্র নয়, বরং ছুরি এবং হাতুড়ি ব্যবহার করে জনাকীর্ণ স্থানে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। আইন মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনকে (আইএস) সরঞ্জাম ও কৌশল দিয়ে সহায়তা করার চেষ্টা করছিলেন।
এফবিআই সদস্যরা যখন স্টারডিভ্যান্টের বাড়িতে তল্লাশি চালান, তখন তাঁরা অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য ও প্রমাণ উদ্ধার করেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল একটি হাতে লেখা নথি, যার শিরোনাম ছিল ‘নববর্ষ ২০২৬ সালে হামলা’। এই নথিতে হামলার বিস্তারিত ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করা ছিল।
উদ্ধারকৃত নথির তথ্যানুযায়ী পরিকল্পনার মূল দিকসমূহ:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু | নববর্ষের অনুষ্ঠানে সমবেত সাধারণ জনতা। |
| আহত বা নিহতের লক্ষ্যমাত্রা | অন্তত ২০ জন ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাত করা। |
| ব্যবহৃত অস্ত্র | ধারালো ছুরি এবং হাতুড়ি। |
| পরবর্তী ধাপ | উদ্ধারকাজে আসা পুলিশ ও জরুরি সেবা কর্মীদের ওপর হামলা। |
| অনুপ্রেরণা | উগ্রবাদী আদর্শ ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএস। |
ক্রিশ্চান স্টারডিভ্যান্টকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে বস্তুগত সহায়তা প্রদানের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালতে তিনি এখনও এসব অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকার বা অস্বীকার করে কোনো আনুষ্ঠানিক আবেদন করেননি। মার্কিন আইন অনুযায়ী, সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁকে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।
এফবিআই জানিয়েছে, তারা গত বেশ কিছুদিন ধরে এই যুবকের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ইন্টারনেটে তাঁর উগ্রবাদী তৎপরতা নজরে আসার পরই এই অভিযান চালানো হয়। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে যে, উৎসবের দিনগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে এই ধরনের একাকী হামলাকারী (Lone Wolf) বা কোনো গোষ্ঠী নাশকতা চালাতে না পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় এই ধরনের ‘হোমগ্রোন’ বা নিজ দেশে বেড়ে ওঠা উগ্রবাদীদের শনাক্ত করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এফবিআই এবং স্থানীয় পুলিশ জনগণকে সন্দেহজনক যেকোনো আচরণ বা কর্মকাণ্ড নজরে এলে দ্রুত কর্তৃপক্ষকে জানানোর অনুরোধ করেছে। নর্থ ক্যারোলাইনার এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, প্রযুক্তির এই যুগে উগ্রবাদী আদর্শ কীভাবে তরুণদের বিভ্রান্ত করে ধ্বংসাত্মক পথে পরিচালিত করতে পারে।