খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্স ও করাচি কিংসের মধ্যকার ম্যাচে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা, আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত এবং বল পরিবর্তন ঘিরে বিতর্ক ম্যাচের ফলকে বড়ভাবে প্রভাবিত করেছে। মাত্র ১২৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে করাচি কিংস শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেয়, যদিও শুরু থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল লাহোরের হাতে।
শেষ ওভারে করাচির জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৪ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎই দুই আম্পায়ার বলের অবস্থা পরীক্ষা করেন। কিছুক্ষণ পর রিজার্ভ আম্পায়ার মাঠে প্রবেশ করে পুরোনো বল পরিবর্তন করেন। কারণ হিসেবে জানানো হয়, বলের কন্ডিশন পরিবর্তিত হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী লাহোর কালান্দার্সকে ৫ রানের জরিমানা করা হয়, ফলে সমীকরণ নেমে আসে ৬ বলে ৯ রানে।
এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। পরের ঘটনাগুলো দ্রুত ঘটে যায়। হারিস রউফের শেষ ওভারের প্রথম বলেই সিকান্দার রাজা দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরিয়ে দেন খুশদিল শাহকে। তবে এরপর এক ওয়াইড বল এবং টানা দুই বলে চার ও ছক্কা হাঁকিয়ে করাচিকে জয় এনে দেন আব্বাস আফ্রিদি।
করাচির এই জয়ের পেছনে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বল পরিবর্তনের ঘটনায় পাওয়া অতিরিক্ত সুবিধা। অন্যদিকে লাহোরের বোলাররা শুরু থেকেই দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন, বিশেষ করে রান আটকে রাখার ক্ষেত্রে তারা সফল ছিলেন।
লাহোরের হয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ছিলেন অত্যন্ত কৃপণ। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২০ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন। শুরুতেই অষ্টম ওভারে তিনি সাদ বেগকে উইকেটকিপারের ক্যাচে পরিণত করেন। পরে ১১তম ওভারে আবারও চাপ তৈরি করেন, মাত্র ৫ রান দেন। ১৭তম ওভারে ফিরে আরও ৫ রান দেন তিনি। শেষদিকে ১৯তম ওভারে কিছুটা রান খরচ হলেও মোটামুটি নিয়ন্ত্রিত ছিলেন তিনি।
লাহোরের বোলিং পারফরম্যান্স ও করাচির ব্যাটিং সমীকরণ নিচে তুলে ধরা হলো—
| বোলার | ওভার | রান | উইকেট |
|---|---|---|---|
| মোস্তাফিজুর রহমান | ৪ | ২০ | ১ |
| উবাইদ শাহ | ৩ | ১১ | ০ |
| উসমান মীর | ৪ | ২০ | ০ |
| হারিস রউফ | ৪ | ৩৫ (প্রায়) | ১ |
| আব্বাস আফ্রিদি | ৪ | ১৮ | ৪ |
এর আগে লাহোর কালান্দার্স ৯ উইকেটে ১২৮ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন আবদুল্লাহ শফিক, ২৪ বল খেলে। বাংলাদেশের পারভেজ হোসেন চারে নেমে ১২ বলে ১২ রান যোগ করেন। করাচির বোলারদের মধ্যে আব্বাস আফ্রিদি ছিলেন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর, ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৪ উইকেট তুলে নেন।
মোটের ওপর, ম্যাচটি কেবল রান তাড়ার লড়াই ছিল না, বরং বল পরিবর্তন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ও শেষ মুহূর্তের চাপ সামলানোর দক্ষতার প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়। লাহোরের নিয়ন্ত্রিত বোলিং সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য ও কিছু বিতর্কিত মুহূর্ত করাচির পক্ষেই যায়, যা ম্যাচটিকে আরও আলোচিত করে তোলে।