নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: 27শে চৈত্র ১৪৩১ | ১০ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের সাংবিধানিক নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির পক্ষ থেকে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ এর পরিবর্তে ‘পিপলস ওয়েলফেয়ার স্টেট অব বাংলাদেশ’ অথবা বাংলায় ‘বাংলাদেশ জনকল্যাণ রাষ্ট্র’ নামকরণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাছে এই প্রস্তাবনা লিখিতভাবে জমা দেন দলটির মহাসচিব প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমেদ নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
প্রস্তাবে বলা হয়, রাষ্ট্রের নামের মধ্যেই যেন জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটে। এজন্য বর্তমান নাম পরিবর্তন করে ‘জনকল্যাণ রাষ্ট্র’ নামকরণের আহ্বান জানানো হয়।
চারটি মৌলিক প্রস্তাব
ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মোট ১৮২টি সংস্কার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৫টিতে একমত, ২৬টিতে দ্বিমত এবং ৪১টি নতুন প্রস্তাবনা উত্থাপন করা হয়েছে। দলটি চারটি মৌলিক প্রস্তাবও দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে আত্মশুদ্ধি, জবাবদিহিতা, শরিয়া আইন বাস্তবায়ন এবং পিআর (প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন) পদ্ধতিতে নির্বাচন।
দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, ‘জাতীয় পর্যায়ে আত্মশুদ্ধি ছাড়া দেশপ্রেম জাগ্রত হয় না। সুশাসনের জন্য সকলের প্রতি জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে—আল্লাহ, বিবেক, জনগণ এবং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর কাছে।’
শরিয়া আইন ও বিচার ব্যবস্থা
দলটির দাবি, দেশে ধর্ষণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধে বিদ্যমান আইন ব্যর্থ হয়েছে। এসব অপরাধ দমনে শরিয়া আইন কার্যকর করতে হবে। দলের পক্ষ থেকে শরিয়া কোর্ট স্থাপনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের ২৩টি প্রস্তাবের মধ্যে ২১টির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছে দলটি। তারা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতি প্রয়োজনীয় করারও প্রস্তাব দিয়েছে।
পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় দলটি
বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে পিআর পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন। তারা বলছে, এই পদ্ধতিতে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে এবং ভবিষ্যতের স্বৈরাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
আশরাফ আলী আকন বলেন, ‘বিশ্বের ৯১টি দেশে পিআর পদ্ধতি চালু রয়েছে। এটি কার্যকর সংসদ গঠন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সহায়ক।’
অন্যান্য প্রস্তাব
দুদক, পুলিশ, জনপ্রশাসন, নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত বিভিন্ন কমিশনের প্রস্তাবনাগুলোর সঙ্গেও দলটি অংশত একমত। বিশেষ করে ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস, একজন ব্যক্তির একাধিক পদে থাকা নিষিদ্ধকরণ এবং প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদসীমা নির্ধারণের মতো প্রস্তাবেও দলটি সমর্থন জানিয়েছে।
জনপ্রশাসনে মন্ত্রীপরিষদ কমিটির মাধ্যমে কর্মকর্তা নিয়োগের বিরোধিতা করেছে দলটি। তারা অফিসিয়াল সিক্রেট অ্যাক্ট পুরোপুরি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ও ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম এবং সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম।