খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১০ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের সঙ্গে সবসময় ‘বিশ্বস্ত বন্ধু, ভালো প্রতিবেশী এবং নির্ভরযোগ্য অংশীদার’ হিসেবে থাকতে চায় চীন—এমন মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির পলিটব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত সহযোগিতা দৃঢ় করার ক্ষেত্রে চীন সবসময় শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পাঁচ নীতির ভিত্তিতে এগিয়েছে এবং সব বাংলাদেশি মানুষের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ নীতিই অনুসরণ করে এসেছে।’
চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওয়াং ই বলেন, এই সম্পর্কের ইতিহাস দুই দেশের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে চীন সমর্থন করে এবং আগামীতেও একটি স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন এবং দেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী টেকসই উন্নয়নের পথ অনুসরণে সমর্থন দিয়ে যাবে।
বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে ওয়াং ই বলেন, ‘বাংলাদেশি পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার চীন দিচ্ছে, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে এখনও ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে, যা একটি স্বল্পোন্নত দেশের প্রতি অনৈতিক ও অযৌক্তিক আচরণ।’
তিনি আরও বলেন, চীন আঞ্চলিকভাবে ‘একসাথে উন্নয়নের লক্ষ্য’ নিয়ে একটি ভাগাভাগির ভবিষ্যত নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম প্রতিবেশী দেশ হিসেবে চীন বাংলাদেশসহ অন্যান্য দক্ষিণ এশীয় দেশের সঙ্গে যৌথভাবে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে যেতে চায়।
ওয়াং ই আরও জানান, সম্প্রতি চীন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক চীনের কুনমিং শহরে সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও তিন দেশের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও অংশীদার। চীনের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সর্বসম্মত অবস্থান রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, চীনের দীর্ঘদিনের নিঃস্বার্থ সহায়তার জন্য বাংলাদেশ কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশ সরকার এক-চীন নীতিতে দৃঢ়ভাবে অটল এবং চীনের শাসনব্যবস্থা থেকে শিখতে, বাণিজ্য ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে, আঞ্চলিক সমন্বয় জোরদার করতে এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী।
খবরওয়ালা/এন