খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 26শে মাঘ ১৪৩২ | ৮ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) নিশ্চিত করেছে। সংস্থার তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিকভাবে রোগটি ছড়ানোর ঝুঁকি এখনও সীমিত। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জোরদার করেছে।
ডব্লিউএইচও শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জানায়, রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার ৪০–৫০ বছর বয়সী এক নারী গত জানুয়ারিতে হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই তার স্নায়বিক উপসর্গ লক্ষ্য করা যায় এবং ২২ জানুয়ারি পরীক্ষাগারে নিপা ভাইরাস সংক্রমণ নিশ্চিত হয়।
ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট’ (আইএইচআর এনএফপি) সংক্রমণের বিষয়টি সংস্থাকে অবহিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, রোগীর কোনো আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ইতিহাস নেই, তবে তিনি কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন, যা নিপা ভাইরাস সংক্রমণের একটি পরিচিত উৎস।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ রোগীর সংস্পর্শে থাকা ৩৫ জনের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, যাদের মধ্যে নতুন কোনো সংক্রমণ ধরা পড়েনি। তবে তারা সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক দুটি নিপা সংক্রমণও নজরদারি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ডব্লিউএইচও বলেছে, ভ্রমণ বা বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রয়োজন নেই।
ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস নিপা ভাইরাসকে একটি “বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, রোগের বিস্তার রোধে যথাযথ নজরদারি, পরীক্ষা এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সংস্থার মূল্যায়নে, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি কম।
নিম্নের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| তথ্য | বিবরণ |
|---|---|
| রোগীর বয়স | ৪০–৫০ বছর |
| লিঙ্গ | মহিলা |
| অবস্থান | নওগাঁ, রাজশাহী বিভাগ |
| হাসপাতালে ভর্তি হওয়া | জানুয়ারি ২০২৬ |
| উপসর্গ শুরু | ২১ জানুয়ারি ২০২৬ |
| সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া | ২২ জানুয়ারি ২০২৬ |
| রোগীর ভ্রমণ ইতিহাস | নেই |
| সম্ভাব্য সংক্রমণ উৎস | কাঁচা খেজুরের রস |
| সংস্পর্শে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা | ৩৫ জন |
| নতুন সংক্রমণ | নেই |
| ডব্লিউএইচও পরামর্শ | সতর্কতা অবলম্বন, নজরদারি ও পরীক্ষা |
এ ঘটনায় দেশব্যাপী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে সরকার ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি অব্যাহত রাখছে। জনসচেতনতা ও সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এখন প্রধান প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।