খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে মাঘ ১৪৩২ | ৩১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের প্রধান বৈদেশিক প্রতিযোগিতামূলক সূচকগুলোর একটি, বাস্তব কার্যকর বিনিময় হার (REER) হালনাগাদ করেছে। নতুন হিসাব প্রণালী অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে আরও সঠিকভাবে প্রতিফলিত করার লক্ষ্য নিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে।
নতুন REER হিসাবের মধ্যে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্স, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে স্বীকৃতি দেয়। এছাড়া সূচকের ভিত্তি বছর পরিবর্তন করে ২০১৫–১৬ থেকে ২০২৩–২৪ করা হয়েছে, যা গত দশকের বাণিজ্য প্রবাহ, মূল্যস্ফীতি ও দ্বিপাক্ষিক বিনিময় হারের পরিবর্তনকে অন্তর্ভুক্ত করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “পূর্বের হিসাব প্রণালী কিছু উপাদান বাদ দিত বা অপ্রতুল ওজন দিত। নতুন পদ্ধতি এই ত্রুটিগুলো সংশোধন করেছে, যা টাকার প্রকৃত মূল্যায়নকে আরও বাস্তবসম্মত করেছে এবং নীতি নির্ধারণে এর ব্যবহারিকতা বৃদ্ধি করেছে।”
REER-এ ব্যবহৃত মুদ্রার গঠনও পরিবর্তন করা হয়েছে। চীন এখন ভারতের স্থান নিলো, দেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে। অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এমন একটি দেশের মুদ্রা যা ১ শতাংশের নিচে অংশীদারিত্ব রাখত, তা সূচক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন REER ঝাঁটির মধ্যে ১৭টি মুদ্রা রয়েছে, যা বাংলাদেশের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৮৫ শতাংশকে কভার করে।
REER হালনাগাদের মূল পরিবর্তন
| বৈশিষ্ট্য | পূর্বের ভিত্তি বছর (2015–16) | নতুন ভিত্তি বছর (2023–24) |
|---|---|---|
| ভিত্তি বছর | 2015–16 | 2023–24 |
| রেমিট্যান্স অন্তর্ভুক্তি | না | হ্যাঁ |
| প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার | ভারত | চীন |
| মুদ্রার সংখ্যা | 17 | 17 |
| বাণিজ্য কভারেজ | ≈85% | ≈85% |
নতুন পদ্ধতি ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে। এই হালনাগাদ সূচক বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থার আরও সঠিক প্রতিফলন ঘটাবে এবং অর্থনৈতিক মূল্যায়নে বিভ্রান্তি কমাবে। প্রতিবেশী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোরও REER ভিত্তি বছর পরিবর্তনের নিয়ম আছে; উদাহরণস্বরূপ পাকিস্তান ও ভারত এখনও ২০১৫–১৬ ভিত্তি ব্যবহার করছে।
REER একটি দেশের মুদ্রার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। ১০০-এর বেশি মান টাকার অতিমূল্যায়ন নির্দেশ করে, যা রফতানি কর্মক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে, এবং ১০০-এর কম মান মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং আপেক্ষিক শক্তিশালী প্রতিযোগিতামূলক অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। নভেম্বর ২০২৫-এ REER ১০৬-এর উপরে ছিল, যা টাকার সামান্য অতিমূল্যায়নকে নির্দেশ করে।
নতুন REER সূচক নীতি নির্ধারক, অর্থনীতিবিদ ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশের বৈদেশিক প্রতিযোগিতার আরও সঠিক ও সমন্বিত মূল্যায়ন প্রদান করবে, যা দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিবেশে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সমর্থন করবে।