খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
বাংলা গানের আকাশে এক স্বতন্ত্র উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন গীতিকবি গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার। উপমহাদেশের প্রখ্যাত এই গীতিকারের জন্ম ১৯২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর, পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে। তাঁর পিতা গিরিজাপ্রসন্ন মজুমদার ছিলেন প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক এবং খ্যাতিমান উদ্ভিদবিদ।
শৈশবে খেলাধুলার প্রতি ছিল তাঁর অগাধ আগ্রহ। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্পের অন্য রূপ—চিত্রাঙ্কনের প্রতি গড়ে ওঠে বিশেষ আকর্ষণ। শেষ পর্যন্ত তিনি কবিতা ও সঙ্গীতের জগতে আত্মপ্রকাশ করেন, যা তাঁকে বাংলা গানধারার অন্যতম অমলিন স্রষ্টা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। গানের প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি কিছুদিন অনুপম ঘটকের কাছে প্রশিক্ষণ নেন।
প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যয়নকালে লেখা তাঁর গান ‘বঁধু গো এই মধুমাস’ শচিনদেব বর্মণ নিজ হাতে সুর দিয়ে রেকর্ড করেন। এ গানটি তাঁর গীতিকাব্যিক যাত্রার সূচনা করে। এরপর দ্রুতই তিনি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন রেকর্ড, আকাশবাণী এবং চলচ্চিত্রে।
তিনি বহু কালজয়ী চলচ্চিত্রের গানের সঙ্গে নিজেকে অমর করে রাখেন—অগ্নিপরীক্ষা, পথে হলো দেরী, হারানো সুর, সপ্তপদী, দেয়া-নেওয়া, মরুতীর্থ হিংলাজ-এর মতো অসংখ্য গান আজও হৃদয়ে বাজে। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা আধুনিক গান ও ছায়াছবির সংগীতজগৎকে তিনি নিজের কলমে সুনিপুণভাবে বেঁধে রেখেছিলেন।
দীর্ঘ প্রায় দশ বছর ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই শেষে ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট তিনি প্রয়াত হন। তবে তাঁর লেখা গান—কারো অশ্রুতে, কারো প্রেমে, কারো স্মৃতির সুরে—আজও বয়ে চলছে অনন্তকাল।
শ্রদ্ধা গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারকে। বাংলা গানের ইতিহাসে তাঁর নাম চিরকালীন আলো হয়ে থাকবে।
খবরওয়ালা /এসএস