খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১২ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলার লোকসংগীতের আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম। তিনি ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধলআশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই গান-বাজনার প্রতি তাঁর প্রবল ঝোঁক ছিল। দারিদ্র্যের কারণে নিয়মিত শিক্ষা না পেলেও জীবনের অভিজ্ঞতা, চারপাশের সমাজ-সংসারের টানাপোড়েন এবং মানুষের সুখ-দুঃখ তাঁর গানের মূল উপজীব্য হয়ে ওঠে।
শাহ আব্দুল করিমের গান মূলত ভাটিয়ালি, বাউল ও আঞ্চলিক লোকসংগীত ধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিনি জীবনের দর্শন, প্রেম, সমাজ, অন্যায়-অবিচার ও মানবমুক্তির বার্তা তাঁর সৃষ্টিতে প্রকাশ করেছেন। গ্রামীণ জীবনের সহজ ভাষায় তিনি গভীর দর্শনীয় চিন্তা প্রকাশ করেছেন, যা সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহুরে শ্রোতাদের কাছেও সমানভাবে জনপ্রিয়।
তাঁর রচিত গানের সংখ্যা প্রায় ১,৬০০-এরও বেশি। এর মধ্যে বহু গান কালজয়ী হয়ে গেছে, যেমন, গ্রামের নওজোয়ান হিন্দু-মুসলমান
মিলিয়া বাউলা গান আর মুর্শিদি গাইতাম আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম।” “গাড়ি চলে না, চলে না, চলে না রে
গাড়ি চলে না। ”গাগলিভরা চাঁদ, বন্দে মায়ার জাল, কেমনে ভুবন মাঝি ধরিবে তরী, তুমি বিনে গুণী রে আল্লা মেঘ ভাসায়ো কে ইত্যাদি।
বাংলার বাউল গানের ধারাকে বিশ্বে পরিচিত করার ক্ষেত্রে শাহ আব্দুল করিমের অবদান অপরিসীম। গ্রামীণ জীবনে থেকেও তিনি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ধারক ছিলেন। অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁর কণ্ঠ ছিল সোচ্চার, আবার মানবপ্রেম ও সাম্যের প্রতি ছিল অবিচল বিশ্বাস।
শাহ আব্দুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। তিনি ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। তবে তাঁর গান, তাঁর দর্শন ও তাঁর মানবতাবাদী চেতনা আজও বাংলার মানুষের হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড