খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে সাময়িক স্থগিতাদেশ ঘোষণা করেছে। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এ তথ্য তাদের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে নিশ্চিত করেছে। এই স্থগিতাদেশ ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে। তবে পর্যটক বা ভিজিট ভিসার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।
দূতাবাসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাদের অভিবাসীরা তুলনামূলকভাবে বেশি হারে সরকারি সহায়তা কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। মূল উদ্দেশ্য হলো সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন নীতিতে ভারসাম্য রক্ষা করা।
স্থগিতাদেশ থাকলেও প্রভাবিত দেশের নাগরিকরা আবেদন জমা দিতে এবং নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। অর্থাৎ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলবে, তবে চূড়ান্ত ভিসা ইস্যু আপাতত বন্ধ থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকার অভিবাসন নীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে। অভিবাসন ইস্যু দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। সরকারি সহায়তার চাপ কমানো, কর্মসংস্থানের ভারসাম্য রক্ষা এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার—এসব কারণের জন্য অতীতেও বিভিন্ন সময় কঠোর নীতি আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ছাড়াও এ তালিকায় এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ অন্তর্ভুক্ত। অঞ্চলভিত্তিক তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
| অঞ্চল | অন্তর্ভুক্ত দেশের সংখ্যা | উল্লেখযোগ্য দেশ |
|---|---|---|
| দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া | ১০+ | বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, আফগানিস্তান |
| মধ্যপ্রাচ্য | ৮+ | ইরান, ইরাক, কুয়েত, লেবানন |
| আফ্রিকা | ২০+ | নাইজেরিয়া, সুদান, সোমালিয়া, ঘানা |
| ইউরোপ | ১০+ | আলবেনিয়া, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, রাশিয়া |
| লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় | ১৫+ | ব্রাজিল, কিউবা, হাইতি, জ্যামাইকা |
নীতিটি কার্যকর হলে পারিবারিক পুনর্মিলন, কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাস এবং ডাইভারসিটি ভিসা—সব ধরনের অভিবাসী ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদি হবে কি না তা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নীতি ও অর্থনৈতিক সূচকের ওপর নির্ভর করবে।
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশের আবেদনকারীদের পরামর্শ দিয়েছে, নিয়মিত সরকারি বিজ্ঞপ্তি পর্যবেক্ষণ করতে এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী আবেদন চালিয়ে যেতে। পরিস্থিতি পরিবর্তিত হলে পরবর্তী নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
সংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো অভিবাসন প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা এবং সরকারি অর্থের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা। এতে প্রভাবিত দেশের নাগরিকদের আবেদন প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য স্থগিত হলেও প্রশাসনিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।