খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে পৌষ ১৪৩০ | ১ই জানুয়ারি ২০২৪ | 1148 Dhu al-Hijjah 5

নিজ সংবাদ ॥ কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসন আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ক্রমশই উত্তপ্ত হতে চলেছে। প্রতিদিনই কোন না কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আবারো আলোচনায় এসেছে বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙার মূল পরিকল্পনাকারী যুবলীগ নেতা আনিসের নাম। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সে আবারো এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চায়। গতকাল রবিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৫ টার দিকে কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রউফ’র ট্রাক প্রতীকের সমর্থক পুরী ব্যবসায়ী ছাত্তারপুরী (৬৪) কে অবৈধ গাড়ী ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়া ইউনয়িন যুবলীগরে সভাপতি আনিসুর রহমান আনিসের বিরুদ্ধে। জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় গতকালও ছাত্তারপুরী কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা পশ্চিমপাড়া মেইন রাস্তার পাশে তার দোকানে ব্যবসা করছিলেন। মাগরিবের কিছু সময় পূর্বে সেলিম আলতাফ জর্জের নৌকা প্রতীকে কর্মি রায়ডাঙ্গা ফুল পাড়া এলাকার মৃত মহির উদ্দীনের পুত্র আনিস (৩৫), রায়ডাঙ্গা স্কুল পাড়া এলাকার মকছেদ আলীর পুত্র মাসুদ (৩৬) এবং একই এলাকার আতর আলীর পুত্র মাসুদ (৩২) সহ ১৫/২০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। ছাত্তারপুরী তাদের গালাগালি করতে নিষেধ করলে তাকে তার প্রাণ নাশের হুমকি সহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি ধমকি দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাগরিবের কিছু সময় পূর্বে আনিস ও দুই মাসুদ সহ কয়েকজন একটি নাম্বার বিহীন মাইক্রোবাসে ছাত্তারপুরীর দোকানের পাশে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে আসে। সেখান থেকে আরো লোকজন নিয়ে তারা ছাত্তারপুরীর দোকানে এসে প্রথমে থাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। তারা বলে নৌকা বাদে যে স্বতন্ত্র করবে তার গিরিগাট্টা টাল করে দিবো। তো টেংরী ভেঙ্গে দিবো। ৭ তারিখের পর তোকে তুলি নিয়ে গিয়ে মেরে দিবো। তোর লাশ পর্যন্ত গায়েব করে দিবো। এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, এলাকায় আনিসের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। সে এলাকায় সুদের ব্যবসা সহ মাদকের সিন্ডিকেট চালায়। সে সুদের ব্যবসা করে মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার সেই সুদের ব্যবসা চলমান। মাদকের ব্যবসা কারার সাথে সাথে সে নিজেও একজন মাদকাসক্ত বলে জানান এলাকাবাসী। সে অবৈধ টাকার জোরে এলাকায় নিজস্ব বাহিনী তৈরি করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে। ভয়ে এলাকার মানুষ তার বিষয়ে মুখ খোলে না। এছাড়াও সে কুষ্টিয়ায় বহুল আলোচিত ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের পুরোধা বিপ্লবী বাঘা যতীনের ভাস্কর্য ভাঙার মূল পরিকল্পনাকারী এবং বাঘা যতিনের ভাস্কর্য ভাঙার এজাহার ভূক্ত প্রধান আসামী। ঐ মামলা পুলিশ তাকে রিমান্ডেও নিয়েছিলো। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা সেই মামলার বাদী ছিলেন বাঘা যতীন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হারুনর রশিদ। অভিযোগ অস্বীকার করে আনিস বলেন, আমি এই বিষয়ে কিছু জানিনা। আমি সারাদিন কুষ্টিয়াতে ছিলাম। এখন তো সামনাসামনি কথা বলা যাচ্ছে না। আপনি কালকে আসেন, না হলে আমি কালকে আপনার অফিসে আসি। এই বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্তারপুীর বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুর রউফ’র ট্রাক প্রতীকের নির্বাচন করায় তারা অবৈধ গাড়ীতে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে আমাকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে গেছে। ঘটনার পরে এখানে পুলিশ এসেছিলো। আমি থানায় অভিযোগ জমা দিয়েছি। আমি এই ঘটনার ন্যায় বিচার চাই। আনিস ও দুই মাসুদ সহ সবাইকে গ্রেফতারের দাবী করছি। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কুমারখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আকিবুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছিলাম। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।