খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী এক যাত্রীর সোনার বার চুরির অভিযোগে কাস্টমস বিভাগের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পিংকু রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সই করা আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পিংকু রায় ঢাকার কাস্টম হাউসের আওতাধীন বিমানবন্দরের সি-শিফট ট্রানজিট ও মূল্যবান গুদামে ‘গুদাম কর্মকর্তা’ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রবাসী এক যাত্রীর একটি স্বর্ণবার গুদামে জমা না দিয়ে তা আত্মসাৎ করেন।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, “যাত্রীর স্বর্ণবার আত্মসাতের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পিংকু রায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার বিধি ৩(খ) অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা রুজু করা হয়েছে।”
পিংকু রায়কে লিখিতভাবে অভিযোগনামা ও বিবরণী পাঠিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলে তিনি লিখিত জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ ও তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ‘সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত’ হয়।
আদেশে আরও বলা হয়, “বিধি ৭(৯) অনুসারে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অনুরূপ গুরুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে দ্বিতীয় দফায় কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়া হলে তিনি পুনরায় জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন।”
পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ গ্রহণ করা হয়। কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, “তার অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিধি ৪(৩)(ঘ) অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি, অর্থাৎ চাকরিচ্যুতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা ২০ মিনিটে দুবাই থেকে ফ্লাইটে করে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রবাসী যাত্রী মহিবুর রহমান। বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ক্যানোপি-২ নম্বর দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি বুঝতে পারেন, তার প্যান্টের পকেটে রাখা ১১৬ গ্রাম ওজনের একটি স্বর্ণবার নেই।
পরবর্তীতে তিনি বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। তদন্তে এপিবিএন বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়— যাত্রীর স্বর্ণবারটি কাস্টমসের গ্রিন চ্যানেলের স্ক্যানিং মেশিনের সামনে ফ্লোরে পড়ে যায়। সেসময় পিংকু রায় ইচ্ছাকৃতভাবে পা দিয়ে সেটি একপাশে সরিয়ে রেখে পরে কৌশলে তা পকেটে তুলে নেন।
চুরি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। তবে, চূড়ান্তভাবে চাকরি থেকে অপসারণের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন।
খবরওয়ালা/এসআই