খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে মাঘ ১৪৩২ | ২৫ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন রমজানে নিত্যপণ্যের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন। তিনি জানান, “গত বছরের তুলনায় এ বছর নিত্যপণ্য ৪০ শতাংশ বেশি আমদানি হয়েছে। তাই রমজানে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকবে এবং কিছু কিছু পণ্যের দামও কমতে পারে।”
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অনুষ্ঠিত টাস্কফোর্সের সভা শেষে তিনি এসব তথ্য জানান। সভায় তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায়ীরা নিশ্চিত করেছেন যে নিত্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। দাম বাড়বে না; বরং নির্দিষ্ট পণ্যের দাম কিছুটা কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে।”
উল্লেখযোগ্য, দেশের অর্থনীতিতে কিছু বড় প্রকল্পের কারণে সরকারের উপর ঋণবাহী চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শেখ বশির উদ্দিন বলেন, “কর্ণফুলী টানেল, পায়রা বন্দর ও পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্পের জন্য বড় দায় তৈরি হয়েছে। টাকার অবমূল্যায়ন এবং আইএমএফের কাছ থেকে বড় ঋণ নেওয়ার ফলে নিত্যপণ্যের বাজারেও প্রভাব পড়ছে।”
একই দিনে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ ব্যয়ে ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। সভার সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে বলেন, “ডলারে ব্যয় বাড়েনি; কিন্তু টাকায় পরিমাপ করলে প্রকল্পের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।”
রূপপুর প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন | অক্টোবর ২০১৩ |
| ইউনিট উৎপাদনে আসার নির্ধারিত সময় | ২০২১ (মহামারির কারণে বিলম্ব) |
| শেষ করার সংশোধিত সময়সীমা | জুন ২০২৮ |
| মূল উন্নয়ন প্রকল্প ব্যয় (ডিপিপি) | ১,১৩,০৯২ কোটি টাকা |
| প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ব্যয় | ১,৩৮,৬৮৫.৭৬ কোটি টাকা (২২.৬৩% বৃদ্ধি) |
| ব্যয় বরাদ্দের উৎস | সরকারি তহবিল: ১০,৮৮১.৪০ কোটি, বৈদেশিক ঋণ: ৩২,০৯৮ কোটি, সংস্থার তহবিল: ২,২৯১ কোটি |
| একনেকে অনুমোদিত মোট প্রকল্প | ২৫টি, মোট ব্যয়: ৪৫,১৯১ কোটি টাকা |
ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ জানান, ইউক্রেন যুদ্ধ ও মহামারির জটিলতার কারণে রূপপুর প্রকল্পের কার্যক্রম বিলম্বিত হয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির পুরো অর্থ প্রকল্প ঋণ থেকে জোগান দেওয়া হবে। তিনি আশ্বাস দেন, প্রকল্পের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং সময়মতো কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রমজানকে সামনে রেখে এই প্রস্তুতি বাজারে স্বস্তির সৃষ্টি করবে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।