খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
বান্দরবান সদর উপজেলার টংকাবতী ইউনিয়নে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত কর্তৃক একটি রাবার বাগান থেকে ছয়জন শ্রমিককে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণকারীরা অপহৃতদের পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপহৃতদের উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে।
গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে টংকাবতী ইউনিয়নের হাতিরডেরা এলাকায় অবস্থিত ইসমাইল নামক এক ব্যক্তির মালিকানাধীন রাবার বাগানে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। বাগান মালিকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারাদিনের কাজ শেষে শ্রমিকরা যখন বাগান সংলগ্ন বিশ্রামাগারে অবস্থান করছিলেন, তখন একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত সেখানে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা অস্ত্রের মুখে শ্রমিকদের জিম্মি করে এবং তাদের চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
অপহৃত ছয়জন শ্রমিকের বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে। তাদের প্রাথমিক পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:
| ক্রমিক | নাম | বয়স | পেশা |
| ১ | নুরুল আফসার | ১৯ বছর | রাবার বাগান শ্রমিক |
| ২ | মো. আরাফাত | ২২ বছর | রাবার বাগান শ্রমিক |
| ৩ | ইসমাইল | ২৪ বছর | রাবার বাগান শ্রমিক |
| ৪ | করিম উল্ল্যাহ | ২৬ বছর | রাবার বাগান শ্রমিক |
| ৫ | রমিত | ২৯ বছর | রাবার বাগান শ্রমিক |
| ৬ | সাকিব | ১৮ বছর | রাবার বাগান শ্রমিক |
ঘটনার পর দুর্বৃত্তদের পক্ষ থেকে বাগান মালিকের কাছে যোগাযোগ করা হয়। তারা অপহৃতদের মুক্তির বিনিময়ে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। দাবি করা অর্থ প্রদান না করলে অপহৃত শ্রমিকদের এবং বাগান মালিককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় বাগান মালিক ও শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
টংকাবতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাং ইয়াং ম্রো বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, অপহরণের বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বান্দরবান সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ পারভেজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পরপরই টংকাবতী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের একটি বিশেষ দল অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং অপহৃতদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে অভিযান পরিচালনা করছে।
বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ সরদার এই বিষয়ে জানান, পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর সমন্বয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাহাড়ি জনপদে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের টহল ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানের দুর্গম এলাকাগুলোতে মাঝেমধ্যেই এ ধরনের অপহরণের ঘটনা ঘটে থাকে, যা স্থানীয় শিল্প ও কৃষিকাজের সাথে জড়িত শ্রমিকদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। টংকাবতীর এই সাম্প্রতিক ঘটনাটি স্থানীয় রাবার শিল্প সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পুলিশি অভিযানের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।