খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে কার্তিক ১৪৩২ | ৬ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে রাউজানের বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আবদুল হাকিম (৫৫)কে টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডে দুইদল সন্ত্রাসী সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিল। পুলিশ চারজনকে গ্রেফতার করে তাদের জবানবন্দি ও জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের এই তথ্য উদঘাটন করেছে।
বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. মারুফ, মো. আবদুল্লাহ খোকন (প্রকাশ ল্যাংড়া খোকন), মো. সাকলাইন হোসেন ও জিয়াউর রহমান। সবাই রাউজান উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, ৭ অক্টোবর আবদুল হাকিম প্রাইভেট কারে নগর থেকে তার গ্রাম রাউজানের বাগোয়ান এলাকায় হামিম অ্যাগ্রো ফার্মে যান। বিকেলে চট্টগ্রাম শহরে ফেরার পথে মদুনাঘাট ব্রিজের পশ্চিম পাশে পৌঁছালে একদল সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে এসে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে আবদুল হাকিম নিহত হন এবং তার গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হন।
হত্যাকাণ্ডের তদন্তে, ৩১ অক্টোবর রাউজানের বাগোয়ান ইউনিয়নের গরীব উল্লাহপাড়া এলাকা থেকে মো. আবদুল্লাহ খোকনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হাকিম হত্যায় সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেন। ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন। এরপর ২ নভেম্বর নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চৌধুরীহাট এলাকা থেকে মো. মারুফকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার রাতে সাকলাইন হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়; তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দেশি তৈরি একনলা বন্দুক, একটি এলজি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। একই দিনে জিয়াউর রহমানও গ্রেফতার হন। চারজনের তথ্যের মাধ্যমে হত্যার পুরো রহস্য উদঘাটন হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, “আবদুল হাকিমকে গুলি করে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। হত্যাকাণ্ড মূলত রাউজান থানার বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারের কারণে সংঘটিত হয়েছে। জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও হাটহাজারী মডেল থানা যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে। হত্যায় দুটি সন্ত্রাসী দল টাকার বিনিময়ে অংশ নিয়েছিল। মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীসহ আরও ১০–১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছেই।”
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, “আবদুল হাকিম হত্যায় জড়িত অন্যদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাউজান উপজেলায় ১৭ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, এর মধ্যে ১২ জন রাজনৈতিক বিরোধের কারণে খুন হয়েছেন।