খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 6শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ১৯ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বাস ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। সংগঠনটি প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১৫ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও বাস মালিক সমিতির কিছু প্রভাবশালী অংশ অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই প্রস্তাব ও অভিযোগ উত্থাপন করেন। তিনি দাবি করেন, জ্বালানি তেলের মূল্য পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অতীতেও সরকার বাস ভাড়া সমন্বয় করেছে। সেই নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই বর্তমান ভাড়া নির্ধারণ করা উচিত।
তিনি বলেন, “অতীতে যখন তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম লিটারে তিন টাকা কমানো হয়েছিল, তখন বাস ভাড়াও প্রতি কিলোমিটারে তিন পয়সা কমানো হয়েছিল। একই অনুপাত অনুসরণ করলে বর্তমানে ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা বাড়ানোই যুক্তিসঙ্গত।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকগুলোতে যাত্রী প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, ১৯ এপ্রিল রাতে বিআরটিএ সদর দপ্তরে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অনুপস্থিতিতে একটি গোপন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব আরও বলেন, “জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে পরিবহন মালিকদের একটি প্রভাবশালী অংশ অতীতের মতোই অযৌক্তিকভাবে ভাড়া বাড়ানোর চেষ্টা করছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা জনস্বার্থবিরোধী হবে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতা বজায় না থাকলে এবং নির্ধারিত মানদণ্ডের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত সামাজিক অস্থিরতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের জনপ্রিয়তা ও প্রশাসনের ওপর আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা মনে করেন, জ্বালানি তেলের দামের সঙ্গে ভাড়া সমন্বয় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও তা হতে হবে হিসাব-নিকাশ ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে। হঠাৎ বড় ধরনের ভাড়া বৃদ্ধি যাত্রীদের ওপর চাপ বাড়াবে এবং জনপরিবহন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিম্নে প্রস্তাবিত ও পূর্ববর্তী ভাড়া সমন্বয়ের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রস্তাবিত ভাড়া বৃদ্ধি | প্রতি কিলোমিটারে ১৫ পয়সা |
| কারণ | ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি |
| অতীত উদাহরণ | ডিজেল ৩ টাকা কমলে ভাড়া ৩ পয়সা কমানো |
| দাবি উত্থাপনকারী | বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি |
| অভিযোগ | বিআরটিএ ও মালিক সমিতির গোপন তৎপরতা |
| বৈঠকের অভিযোগ | যাত্রী প্রতিনিধি ছাড়া বৈঠক (১৯ এপ্রিল) |
| ঝুঁকি | জনঅসন্তোষ ও পরিবহন খাতে অস্থিরতা |
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মতে, পরিবহন খাতে টেকসই ও গ্রহণযোগ্য ভাড়া কাঠামো নিশ্চিত করতে হলে সকল অংশীজনকে অন্তর্ভুক্ত করে স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় এটি শুধু যাত্রীদের ওপর আর্থিক চাপই বাড়াবে না, বরং পুরো পরিবহন ব্যবস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।