খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২১ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জার্মান ফুটবলের পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখ চার ম্যাচ হাতে রেখেই বুন্দেসলিগার ২০২৫-২৬ মৌসুমের শিরোপা নিজেদের করে নিয়েছে। গত রোববার নিজেদের মাঠ আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় স্টুটগার্টকে ৪-২ গোলে পরাজিত করে লিগ ইতিহাসে ৩৫তম বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে তারা। তবে এই আনন্দঘন মুহূর্তে ভক্তদের নজরে এসেছে এক অদ্ভুত বিষয়—খেলোয়াড়দের হাতে থাকা একটি চিনা মাটির ‘কাকাতুয়া’। বায়ার্নের সাম্প্রতিক শিরোপা উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠা এই ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে এক রহস্যময় ও মজাদার প্রেক্ষাপট।
স্টুটগার্টের বিপক্ষে জয়ের মাধ্যমে বায়ার্ন মিউনিখ নিশ্চিত করেছে যে, লিগের বাকি ম্যাচগুলোতে অন্য কোনো দল তাদের পয়েন্ট স্পর্শ করতে পারবে না। যদিও শিরোপা নিশ্চিত হয়েছে, তবে নিয়ম অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটি এখনই খেলোয়াড়দের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি। কোলনের বিপক্ষে মৌসুমের শেষ ম্যাচ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্রফি প্রদান করা হবে। প্রথা অনুযায়ী সেদিন বিয়ার উৎসবের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় উদ্যাপন করবে বাভারিয়ানরা।
তবে ট্রফি হাতে পাওয়ার আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা না করেই উৎসবে মেতেছেন খেলোয়াড়রা। রোববার আলিয়াঞ্জ অ্যারেনার দক্ষিণ প্রান্তের গ্যালারির সামনে দাঁড়িয়ে পুরো দল যখন ছবি তুলছিল, তখন সবার পরনে ছিল বিশেষ সাদা টি-শার্ট। সেই টি-শার্টে আঁকা ছিল কাকাতুয়ার কার্টুন। শুধু তাই নয়, বায়ার্ন তারকা লিওন গোরেৎজকাকে একটি চিনা মাটির তৈরি কাকাতুয়া ভাস্কর্যের সাথে পোজ দিতে দেখা যায়, যা মুহূর্তেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।
বায়ার্নের এই কাকাতুয়া উদ্যাপনের পেছনে রয়েছে একটি ছোটখাটো চুরির ঘটনা। এই ঘটনার সূত্রপাত গত মৌসুমে, যখন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানির অধীনে বায়ার্ন তাদের প্রথম শিরোপা জিতেছিল।
সেবার ৩২তম রাউন্ডে বায়ার্নের কোনো ম্যাচ ছিল না। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেভারকুসেন যদি ফ্রেইবুর্গের বিপক্ষে পয়েন্ট হারায়, তবেই বায়ার্ন চ্যাম্পিয়ন হবে—এমন সমীকরণের দিনে দলের সবাই মিউনিখের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত অভিজাত ‘কেফার ট্যাভার্ন’ রেস্তোরাঁয় জড়ো হন। সেখানে খেলা দেখার সময় রেস্তোরাঁর সাজসজ্জার অংশ হিসেবে রাখা একটি চিনা মাটির কাকাতুয়া ভাস্কর্য খেলোয়াড়দের নজর কাড়ে। রেস্তোরাঁ মালিক মাইকেল কেফার বহু বছর আগে প্যারিসের এক এন্টিক শপ থেকে এটি সংগ্রহ করেছিলেন।
শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পর আনন্দের আতিশয্যে বায়ার্নের কোনো এক সদস্য অলক্ষ্যে সেই ভাস্কর্যটি নিজের সাথে নিয়ে নেন। পরবর্তী সময়ে শিরোপা উদ্যাপনের মঞ্চে যখন ট্রফি রাখা হয়, তখন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি স্বয়ং সেই কাকাতুয়াটি ট্রফির ওপর বসিয়ে দেন। এর ফলে এটি বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের নজরে আসে।
কাকাতুয়াটিকে এখন বায়ার্ন মিউনিখের ‘লাকি চার্ম’ বা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ক্লাব বিশ্বকাপের জন্য গত গ্রীষ্মে এটি যুক্তরাষ্ট্রেও নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বায়ার্ন বর্তমানে একাধিক শিরোপা জয়ের দৌড়ে রয়েছে।
| প্রতিযোগিতার নাম | বর্তমান অবস্থান / প্রতিপক্ষ | তারিখ |
| বুন্দেসলিগা | চ্যাম্পিয়ন (৩৫তম শিরোপা) | এপ্রিল ২০২৬ |
| ফ্রেঞ্চ কাপ | সেমিফাইনাল (বনাম লেভারকুসেন) | বুধবার |
| চ্যাম্পিয়নস লিগ | সেমিফাইনাল (বনাম পিএসজি) | আগামী সপ্তাহ |
কাকাতুয়াটি আসলে কে চুরি করেছিলেন, তা নিয়ে জল্পনা থাকলেও জশুয়া কিমিখ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কোচিং স্টাফের সদস্য অ্যারন ড্যাঙ্কস বর্তমানে এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছেন। যদিও রেস্তোরাঁ মালিক মাইকেল কেফার বিষয়টি সহজভাবে নিয়েছেন এবং ভাস্কর্যটি ক্লাবকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন।
এই ঘটনাটি কেফার এবং তার ব্যবসার জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ার্নের শিরোপা জয়কে কেন্দ্র করে তিনি কাকাতুয়ার ছবি সম্বলিত বিশেষ পণ্য বা মার্চেন্ডাইজ বাজারে ছেড়েছেন। সেখানে দেখা যায়, কাকাতুয়াটি গলায় লিগ ট্রফি ঝুলিয়ে রেখেছে। বায়ার্ন ভক্তদের প্রত্যাশা, মৌসুমের বাকি দুটি গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টেও এই ‘লাকি চার্ম’ তাদের সাফল্য এনে দেবে।