বিএনপির সংকটময় সময়ে দেশে ফেরেন ডা. জুবাইদা, দলের নেতৃত্বে থাকবেন কি?
প্রকাশ: 22শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৬ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশে থেকে চলে গিয়েছিলেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। এরপর তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর স্বামীর সঙ্গে পরবাসে থাকতে বাধ্য হন।
৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেই সময় ডা. জুবাইদা রহমানও লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরে খালেদা জিয়ার পাশে ছিলেন। পরে তিনি কিছুদিনের জন্য আবার লন্ডন ফেরত যান।
এদিকে, গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা দিচ্ছেন। মেডিকেল বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন ডা. জুবাইদা রহমানও।
খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হওয়ায় লন্ডন থেকে আবারও ঢাকায় এসেছেন ডা. জুবাইদা। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) তিনি ঢাকায় নেমেই শাশুড়িকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। সারাদেশে খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনার মধ্যে এই সময়ে ডা. জুবাইদার উপস্থিতি দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রমাণ দিয়েছে। এতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে, বিএনপির দুঃসময়ে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন খালেদা জিয়া, জুবাইদাও কি একই পথে হাঁটবেন?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ডা. জুবাইদা সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন, তবে এটি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা এবং অভিজ্ঞতা থাকায় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া তার জন্য খুব চ্যালেঞ্জ হবে না।
এর আগে, অক্টোবর মাসে বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকারে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, একজন চিকিৎসকের সন্তান চিকিৎসক হয়, একজন লয়ারের সন্তান আইনজীবী হয়; রাজনৈতিক ক্ষেত্রে কেউ পরিবারিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এগোবে না। যে ব্যক্তি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে দলকে এগিয়ে নিতে পারে, সে সফল হবে। সময় ও পরিস্থিতি সবকিছু প্রমাণ করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডা. জুবাইদা রহমানের সক্রিয় রাজনীতিতে আসা বিএনপির জন্য ইতিবাচক। দীর্ঘদিন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অভাবে শূন্যতা থাকলেও তার উপস্থিতি তা পূরণ করতে পারে। এতে দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, নৈতিক ভিত্তি এবং জনসমর্থন পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
খবরওয়ালা /এসএস