খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে পৌষ ১৪৩২ | ২৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার পর দল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহ্ নূরুল কবীর শাহীন। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টায় ঈশ্বরগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির সব ধরনের কর্মকাণ্ড ও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, তাঁর পদত্যাগপত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর ডাকযোগে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শাহ্ নূরুল কবীর শাহীন বলেন, তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল ছাত্রজীবন থেকেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ফজলুল হক হলের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছিলেন। সেখান থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে তাঁর পথচলা শুরু, যা টানা ৪৩ বছর ধরে অব্যাহত ছিল।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘এক এগারোর সময় দেশ যখন রাজনৈতিকভাবে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন টেলিভিশন টকশোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দলের পক্ষে কথা বলা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং। এরপর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে আমাকে জেল-জুলুম ও নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।’
শাহীন আরও জানান, ২০০১ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে মনোনয়ন পেলেও নির্বাচন না হওয়ায় সংসদে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে দল নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। পরে ২০১৮ সালে প্রাথমিকভাবে তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও জোটগত সিদ্ধান্তের কারণে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হওয়া থেকে বঞ্চিত হন।
তিনি বলেন, ‘এত কিছুর পরও দলের দুঃসময়ে আমি নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছি এবং মাঠে থেকে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে গেছি। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল আমাকে মূল্যায়ন করবে—এমন প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত একাধিকবার মনোনয়ন রদবদল হলেও আমার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এতে আমি গভীরভাবে হতাশ।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে এখনো তিনি চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। স্থানীয় জনগণের ব্যাপক সমর্থন পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানান তিনি।
| সাল/সময়কাল | ঘটনা |
|---|---|
| ছাত্রজীবন | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ফজলুল হক হলের নির্বাচিত প্রতিনিধি |
| প্রায় ৪৩ বছর | বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় সম্পৃক্ততা |
| ২০০১ | বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত |
| ২০০৬ | মনোনয়ন পেলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি |
| ২০১৪ | বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি |
| ২০১৮ | প্রাথমিক মনোনয়ন পেলেও জোটগত কারণে প্রার্থীতা বাতিল |
| ২৮ ডিসেম্বর | বিএনপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা |
এই পদত্যাগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা ও সমীকরণের জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।