খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে ভাদ্র ১৪৩২ | ২০ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এএফএম শাহীনুল ইসলামকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
তিনি বলেন, “তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএফআইইউ-প্রধান ছুটিতে থাকবেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তা তাঁকে অবিলম্বে ছুটিতে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ডেপুটি গভর্নর এবং দুই নির্বাহী পরিচালকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সহায়তা করবে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা।
সোমবার সামাজিক মাধ্যমে শাহীনুল ইসলামের একাধিক আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যদিও তিনি ভিডিওগুলোকে ভুয়া দাবি করেছেন, প্রাথমিকভাবে ফ্যাক্টচেক করে বাংলাদেশ ব্যাংক সেগুলো সত্য বলে নিশ্চিত হয়। ভিডিও ছড়ানোর পর মঙ্গলবার তিনি অফিসেও যাননি।
এই ভিডিও ভাইরাল হয় এমন এক সময়ে, যখন বিতর্কিত পরিবহন ব্যবসায়ী খন্দকার এনায়েত উল্লাহর অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের পর প্রায় ১৯ কোটি টাকা উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। এ ঘটনায় অনৈতিক কিছু হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দলও বিষয়টি পরীক্ষা করছে।
সূত্র জানিয়েছে, গত নভেম্বরে বিএফআইইউ এনায়েত উল্লাহ ও তাঁর পরিবারের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৫০টি অ্যাকাউন্টে ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজ করেছিল। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিলে ব্যাংক আল-ফালাহর চারটি অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৯ কোটি টাকা তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, বাস রুট থেকে চাঁদার টাকা হিসেবেই এ অর্থ জমা হয়েছিল।
দুদকের আবেদনে গত ২৭ মে আদালত ১২০ কোটি টাকা ফ্রিজের আদেশ দিলেও পরে জানা যায়, অ্যাকাউন্টগুলোতে আছে মাত্র ১০১ কোটি টাকা। অভিযোগ উঠেছে, অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে বাকি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। শুধু এনায়েত উল্লাহ নয়, বিগত সরকারের সময়ে আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকেও একইভাবে অর্থ তোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাহীনুল ইসলাম বলেন, ব্যবসার প্রয়োজনে এনায়েত উল্লাহর কিছু অর্থ তোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এখানে কোনো অনৈতিক লেনদেন হয়নি। আপত্তিকর ভিডিওর বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাকে হেয় করার জন্য কে বা কারা এটা ছড়িয়েছে। এসব ভুয়া।”
তবে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেতর-বাহিরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে।
গত বছরের ৮ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্মকর্তাদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন তৎকালীন বিএফআইইউ প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাস। দীর্ঘদিন শূন্য থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে শাহীনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
তবে গভর্নরের নেতৃত্বে গঠিত সার্চ কমিটি যে তিনজনের নাম প্রস্তাব করেছিল, তাতে তাঁর নাম ছিল না। রাজনৈতিক তদবিরে তিনি এ পদে বসেন এমন আলোচনাও আছে।
খবরওয়ালা/আশ