খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিএএসএ) নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তীব্রভাবে দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে। এই বিভাজন সোমবার দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ পায়। বর্তমান সভাপতি নজরুল ইসলাম এবং নতুন কমিটির সভাপতি কানিজ মওলা ও মহাসচিব বাবুল মিঞা পৃথকভাবে নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করেছেন।
নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভা গত রোববার অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সদস্যদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে; নতুন কমিটি গঠনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।” নজরুল ইসলাম গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
অন্যদিকে নতুন কমিটি দাবি করেছে, বিএএসএর জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৬-২৭ মেয়াদে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে সম্পূর্ণ কমিটির নাম পরে ঘোষণা করা হবে।
ভাঙনের পেছনে মূলত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক বদলি প্রক্রিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে কাজ করেছে। গত ২০ জানুয়ারি দেশের আট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল। এর মাত্র দু’দিন পর ওই বদলি আদেশ বাতিল করা হয়। বদলি বাতিল প্রক্রিয়ায় বিএসএ সভাপতি জড়িত থাকতে পারেন— এমন সন্দেহও বিভাজনের একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নতুন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীলদের তথ্য নিম্নরূপ:
| পদ | নাম | বর্তমান অবস্থান |
|---|---|---|
| সভাপতি | কানিজ মওলা | জাতীয় সংসদ সচিবালয় সচিব |
| মহাসচিব | বাবুল মিঞা | পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব |
| সহসভাপতি | ফিরোজ সরকার | খাদ্য সচিব |
| সহসভাপতি | শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী | ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক |
বদলি আদেশের সঙ্গে যুক্ত ইউএনওদের মধ্যে ছিলেন কলমাকান্দার উপজেলা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান। তার অধীনে ঘটেছে সরকারি জায়গা দখল ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে বৈরিতা। এই ধরনের নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মকর্তাদের বদলি করা হয় এবং এই প্রক্রিয়া বিএনপি-জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের মধ্যে দফায় দফায় বিভাজন সৃষ্টি করেছে।
বর্তমান ও নতুন কমিটির প্রধানদের মোবাইলে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। ফলে বিএসএর অভ্যন্তরে বিভাজন এবং প্রশাসনিক উত্তেজনা দীর্ঘ সময় ধরে চলার সম্ভাবনা রয়েছে।