খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বখ্যাত দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড বিটিএস (BTS) তাদের নতুন ওয়ার্ল্ড ট্যুর ‘আরিরাং’-এর ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে বিটিএস ভক্ত বা ‘আর্মি’দের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তবে এই উদ্দীপনার সমান্তরালে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে কনসার্টের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম। আগামী ৯ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়ার গয়ংগি প্রদেশের গয়াং স্টেডিয়াম থেকে এই ট্যুর শুরু হতে যাচ্ছে। গয়াংয়ে আয়োজিত তিনটি শোর টিকিট ছাড়ার সাথে সাথেই তা নিমিষেই শেষ হয়ে যায়, যা ব্যান্ডটির অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তারই প্রমাণ দেয়।
২০২২ সালে বিটিএসের ‘পারমিশন টু ড্যান্স অন স্টেজ’ কনসার্টের তুলনায় এবারের টিকিটের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গয়াং কনসার্টের সর্বোচ্চ মূল্যের টিকিট বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৬৪ হাজার উন বা প্রায় ২২,২০০ টাকায়। শুধু বিটিএস নয়, অন্যান্য কে-পপ (K-pop) গ্রুপের কনসার্টের টিকিটের দামও এখন দুই লাখ উনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বিটিএস প্রথম ব্যান্ড হিসেবে ‘প্রিমিয়াম সাউন্ডচেক প্যাকেজ’ চালু করেছিল, যেখানে ভক্তরা মূল অনুষ্ঠানের আগে শিল্পীদের রিহার্সাল দেখার সুযোগ পান। বর্তমানে অন্যান্য নতুন গ্রুপও এই পথ অনুসরণ করছে।
নিচে বিভিন্ন কে-পপ ব্যান্ডের সাম্প্রতিক কনসার্ট টিকিটের মূল্যের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| ব্যান্ডের নাম | কনসার্ট/প্যাকেজের নাম | টিকিটের মূল্য (কোরিয়ান উন) | আনুমানিক বাংলাদেশি টাকা |
| বিটিএস (BTS) | আরিরাং ওয়ার্ল্ড ট্যুর (সর্বোচ্চ) | ২,৬৪,০০০ উন | ২২,২০০ টাকা |
| ইললিট (ILLIT) | মিট অ্যান্ড গ্রিট প্যাকেজ | ২,৫৩,০০০ উন | ২১,৩০০ টাকা |
| এনহাইপেন | ওয়াক দ্য লাইন (মিট অ্যান্ড গ্রিট) | ২,৫৩,০০০ উন | ২২,০০০ টাকা |
| এনহাইপেন | সাউন্ডচেক আসন | ২,২০,০০০ উন | ১৮,৫০০ টাকা |
সংগীত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কনসার্টের টিকিটের এই মূল্যবৃদ্ধি অনেকটা অনিবার্য হয়ে পড়েছে। এর পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
১. উন্নত প্রোডাকশন ভ্যালু: আধুনিক কনসার্ট এখন শুধু গান গাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশাল এলইডি স্ক্রিন, ইমার্সিভ থ্রিডি সাউন্ড সিস্টেম এবং অত্যন্ত জটিল স্টেজ ডিজাইনের কারণে প্রোডাকশন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
২. বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি: বিশ্বজুড়ে লজিস্টিকস, পরিবহন এবং সরঞ্জাম ভাড়ার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বড় স্টেডিয়াম ট্যুরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কয়েক হাজার কর্মীর প্রয়োজন হয়, যা ব্যয়বহুল।
৩. বিশাল ভেন্যু ব্যবস্থাপনা: গয়াং স্পোর্টস কমপ্লেক্সের মতো স্টেডিয়ামে একসাথে ৫০ হাজার দর্শক সমাগম ঘটে। এই বিশাল জনসমাগম সামলাতে যে পরিমাণ কারিগরি কর্মী ও নিরাপত্তা রক্ষী প্রয়োজন, তার খরচ টিকিটের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ভক্তরা টিকিটের দাম নিয়ে অভিযোগ করলেও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় কোরিয়ায় টিকিটের দাম এখনো বেশ কম। উদাহরণস্বরূপ, জাপানে ভিআইপি টিকিটের দাম শুরু হয় ৪৫ হাজার ইয়েন (প্রায় ৩৫,০০০ টাকা) থেকে। অন্যদিকে, উত্তর আমেরিকায় এই দাম আরও কয়েক গুণ বেশি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রিমিয়াম আসনের টিকিট অনেক সময় ৮০০ ডলার বা প্রায় ৯৭,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। অনেক ভক্তকে আবার ‘সেকেন্ডারি মার্কেট’ বা পুনবিক্রয় বাজার থেকে আরও চড়া দামে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।
টিকিটের এই উচ্চমূল্য নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নিউ জার্সিভিত্তিক বিটিএস ভক্ত গ্রেস কাও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় কোরিয়ার টিকিট অনেক সস্তা। তবে স্থানীয় সংগীত সমালোচকদের মতে, কে-পপের মূল দর্শক যেহেতু কিশোর-কিশোরী ও তরুণ সমাজ, তাই টিকিটের দাম তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা উচিত। সংগীত সমালোচক লিম হি-ইউন বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর জন্য ২ লাখ উন খরচ করা অত্যন্ত কঠিন, কারণ তাদের অধিকাংশকেই টিকিটের টাকার জন্য বাবা-মায়ের ওপর নির্ভর করতে হয়।”
দীর্ঘ বিরতির পর বিটিএসের এই ফেরা ভক্তদের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে এলেও, আকাশচুম্বী টিকিটের দাম সাধারণ ভক্তদের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাসত্ত্বেও ‘আরিরাং’ ট্যুরটি ইতিহাসের অন্যতম সফল ট্যুর হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।