খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে আষাঢ় ১৪৩১ | ২৩ই জুন ২০২৪ | 1148 Dhu al-Hijjah 5
কেটে ফেলা হয়েছে বিতর্কিত সেই গাছ, বিষয়টি ছিল ভূয়া। গাছে কান পাতলে নারী কন্ঠে কথা শোনা যায় বিষয়টিকে ভূয়া ও গুজব দাবি করে কেটে ফেলা হয়েছে কথা বলা সেই বিতর্কিত গাছ। পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির হস্তক্ষেপে শনিবার দুপুরের পর কাটা হয় সেইগাছ। গাছটি কাটার পরও দেখতে ও গাছের কথা শুনতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসে অসংখ্য মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, গত এক সপ্তাহজুড়ে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের গজিনা গ্রামের নিরব নামে পাচ বছর বয়সী এক শিশু গাছটিতে ধারালো দা দিয়ে কোপ দিলে গাছ বলে ওঠে আমাকে মারিস না। পরে এঘটনা পাশের একজন মহিলাকে বললে এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। পরে দলে দলে এসে কান পাততে থাকে এলাকার সবাই।
তাদেরও একই দাবি, গাছে কান পাতলে মেয়ে কন্ঠে কান্নার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কেউ সালামের উত্তর শুনছেন, আবার কেউ কান্না বা আর্তনাদের আওয়াজ শুনছেন। তবে গাছ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন বিষয়টি ভুয়া।

এমন ঘটনা আশপাশের কয়েক এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গাছটি দেখতে ও কথা শুনতে ছুটে আসে উৎসুক জনতা। গাছটিকে পবিত্র আখ্যা দিয়ে গাছের চারপাশ ঘিরে বাশের বেড়া দেয় এলাকাবাসী। কেউ কেউ আবার মানত করে গাছের গোড়ায় ফেলতে থাকে টাকা পয়সা। পরে কয়েকজন মুসুল্লির অনুরোধ বেড়া ভাঙা ও টাকা তোলা বন্ধ হয়।

এমন ঘটনায় মূলধারার বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে পুলিশ। শনিবার সকালে মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ও স্থানীয় চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান টুটুলের হস্তক্ষেপে গাছটি কেটে ফেলা হয়।

এসময় গাছকাটা দেখতে ভীড় করেন এলাকাবাসী। তারা জানান, গাছের কথা শোনা যায় বিষয়টি গুজব। আমাদের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর আমরা ওই এলাকায় গিয়ে সরেজমিনে দেখি। বিষয়টি আমাদের কাছে ভুয়া মনে হয়েছে। এছাড়াও আমরা কান পেতে দেখেছি। কোন কথা শোনা যায় না। পরে আমরা গাছটি কেটে ফেলি।
আরও দেখুন: