খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, যদি যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সামরিক সক্ষমতা পরীক্ষা করতে চায় অথবা যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, তবে তারা পূর্ণ প্রস্তুত। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার (১২ জানুয়ারি) বলেন, “যদি ওয়াশিংটন আমাদের সামরিক শক্তি পরীক্ষা করতে চায়, আমরা তা মোকাবেলা করার জন্য প্রস্তুত। আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র বুদ্ধিমানের মতো আলোচনা ও কূটনীতি বেছে নেবে।”
আরাগচি আরও জানান, গত বছরের জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যে সামরিক প্রস্তুতি ইরানের ছিল, বর্তমানে তা আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। তিনি সতর্ক করেছেন, ইসরাইলের স্বার্থ রক্ষায় যারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের পথে টেনে নিচ্ছে, তারা ভুল করবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানে চলমান বিক্ষোভের পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, “আন্দোলনে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ঢুকে পড়েছে। তারা বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে।” ২০২২ সালের পর ইরানে এটাই সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ। মূলত মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিবাদে শুরু হলেও তা দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ইতিমধ্যেই দেশের বৃহত্তর অংশে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিক্ষোভকারীরা বর্তমান শাসনের অবসান দাবি করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক দিনে একাধিকবার ইরানে ‘হস্তক্ষেপের’ হুমকি দিয়েছেন এবং বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান রবিবার দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠন ও জনগণের সমস্যা শোনার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের সরকার জনগণের কথা শোনার জন্য প্রস্তুত এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত করার জন্য কাজ করছে।”
নিচের টেবিলটি ইরানের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি সংক্ষেপে তুলে ধরছে:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বিক্ষোভের সূচনা | ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ |
| মূল কারণ | মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক দুরবস্থা |
| প্রভাবিত শহর | দেশব্যাপী বিভিন্ন শহর |
| নিহত ও আহত | বিভিন্ন রিপোর্ট অনুসারে, আহত ও নিহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া | হস্তক্ষেপের হুমকি এবং সমর্থনের ঘোষণা |
| ইরানের প্রতিক্রিয়া | পূর্ণ সামরিক প্রস্তুতি এবং আলোচনার প্রস্তাব |
বর্তমান পরিস্থিতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটও ক্রমেই জটিল আকার নিচ্ছে।