খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এবার বিদেশি কোম্পানিকে ঋণ দেওয়ার সময় বিদেশি ব্যাংক থেকে গ্যারান্টি নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা ছাড়া কাজ করতে পারবে। এই নিয়ম শুধুমাত্র সেই বিদেশি ব্যাংকগুলোর জন্য প্রযোজ্য, যাদের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি থেকে সন্তোষজনক রেটিং আছে।
একজন সিনিয়র বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশি ব্যাংক যারা গ্যারান্টর হিসেবে কাজ করবে তাদের Moody’s, S&P Global বা সমমানের অন্য কোনো আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি থেকে রেটিং থাকতে হবে। তিনি বলেন, অনেক কোম্পানির যথেষ্ট জামানত না থাকায় তারা স্থানীয় ব্যাংকের কাছে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ে। এই কারণে তারা বিদেশি ব্যাংককে গ্যারান্টর হিসেবে ব্যবহার করে।
উল্লেখ্য, এই সুবিধা স্থানীয় এবং বিদেশি উভয় কোম্পানির জন্য প্রযোজ্য হলেও মূল সুবিধাগুলো বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানির জন্য। এরা সাধারণত HSBC, JP Morgan Chase, Bank of America, Bank of China এবং Standard Chartered-এর মতো বিদেশি ব্যাংকের গ্যারান্টি গ্রহণ করে।
অন্য একজন সিনিয়র কর্মকর্তা উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে অনেক কোম্পানি প্রকল্প ভিত্তিক কাজ করে। ধরুন, কোনো কোম্পানি Tk20 কোটি মূল্যের প্রকল্প পেতে পারে, কিন্তু ব্যাংক ঋণের প্রয়োজন হতে পারে Tk2 কোটি। ব্যাংক সাধারণত জামানত চায়। যেহেতু কোম্পানির স্থির ও অস্থির সম্পদ সীমিত, তাই বিদেশি ব্যাংক গ্যারান্টর হিসেবে দায়িত্ব নেয়।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিদেশি ব্যাংকের ব্যাংক গ্যারান্টি (BG) বা স্ট্যান্ডবাই লেটার অব ক্রেডিট (SBLC) অবশ্যই শর্তহীন, অপ্রত্যাহারযোগ্য এবং প্রথম চাহিদায় প্রদেয় হতে হবে। এছাড়াও, এটি অবশ্যই সেই বিদেশি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান প্রদান করবে যার রেটিং কমপক্ষে ‘BB রেটিং গ্রেড ১–২’ সমমানের।
নির্দেশনার মূল শর্তাবলী:
| শর্তাবলী | বিস্তারিত |
|---|---|
| গ্যারান্টির ধরন | শর্তহীন, অপ্রত্যাহারযোগ্য, প্রথম চাহিদায় প্রদেয় |
| প্রযোজ্য ব্যাংক | বিদেশি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট রেটিং সহ |
| ঋণগ্রহীতার ব্যয় | কোনো কমিশন, ফি বা অন্যান্য সুবিধা প্রযোজ্য নয় |
| আইনগত নিরাপত্তা | আইন, বিবাদ সমাধান এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত থাকতে হবে |
| আর্থিক যাচাই | ঋণগ্রহীতার আর্থিক শক্তি, নগদ প্রবাহ এবং ক্রেডিট যোগ্যতা মূল্যায়ন |
লোন প্রদানের আগে ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে, ঋণগ্রহীতার ব্যবসা উন্নতি করছে, টার্নওভার বৃদ্ধি পাচ্ছে, লাভজনকতা ও নগদ প্রবাহ সঠিক, এবং হিসাব খাত সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়াও গ্যারান্টি প্রয়োগ বা ঋণ ডিফল্ট হলে বাংলাদেশ ব্যাংককে অবিলম্বে অবহিত করতে হবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানি সহজেই বাংলাদেশে বিনিয়োগ এবং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংকগুলো ঝুঁকি হ্রাস করে ঋণ প্রদানে সক্ষম হবে। বিশেষ করে যেসব কোম্পানির স্থির ও অস্থির সম্পদ সীমিত, তাদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকর।