খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে আষাঢ় ১৪৩২ | ২৭ই জুন ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সম্পৃক্ততা, রাখাইনের জন্য প্রস্তাবিত মানবিক করিডোর এবং স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধচক্রে’ জড়ানোর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে রোড মার্চ শুরু করেছে ‘সাম্রাজ্যবাদবিরোধী দেশপ্রেমিক জনগণ’ নামের একটি নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।
অর্ধশতাধিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের ছয় শতাধিক নেতাকর্মী এই কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে রোড মার্চের সূচনা হয়। শুরুতে গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যের শিল্পীরা পরিবেশন করেন ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু’, ‘জনতার সংগ্রাম চলবেই’সহ একাধিক গণসংগীত।
রোড মার্চ শুরুর আগে বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ এবং রাখাইনের জন্য করিডোর চালুর প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে নেমেছি। মা-মাটি-মোহনা আমরা বিদেশিদের হাতে তুলে দেব না।”
তিনি আরও বলেন, “দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশপ্রেমিক জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করে যাব।”
এ সময় রোড মার্চে অংশগ্রহণকারীরা ‘সাম্রাজ্যবাদের আস্তানা—ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগান দিতে থাকেন।
রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান, “ঢাকা থেকে প্রায় ছয় শতাধিক নেতাকর্মী রওনা হয়েছেন। পথে পথে আরও অনেকে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হবেন।”
প্রথম দিন নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও মিছিল শেষে কুমিল্লার টাউন হল ময়দানে সমাপনী সমাবেশ হবে এবং রাত্রিযাপন করা হবে ফেনীতে।
রোড মার্চের দ্বিতীয় দিন শনিবার সকালে ফেনী থেকে যাত্রা করে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে পথসভা ও মিছিল শেষে চট্টগ্রাম বন্দরের সামনে গিয়ে শেষ হবে সমাপনী সমাবেশের মাধ্যমে।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “নিউমুরিংসহ চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রম রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। রাখাইনের প্রস্তাবিত করিডোরের উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে এবং জাতীয় সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিগত ও বর্তমান সরকারের করা সব গোপন চুক্তি প্রকাশ্যে আনতে হবে।”
রোড মার্চ উদ্বোধনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন—ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার সমন্বয়ক ও গণমুক্তি ইউনিয়নের আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন নসু, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, বাসদ (মার্ক্সবাদী)-এর সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, অধ্যাপক এম এম আকাশ, সিপিবির সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাসদ নেতা হারুনার রশিদ ভূঁইয়া, সোশালিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিক ঐক্যের আহ্বায়ক মফিজুর রহমান লাল্টু এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক গণমঞ্চের সভাপতি মাসুদ খান।
প্রিন্স জানান, সরাসরি উপস্থিত থাকতে না পারলেও অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী ও অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ রোড মার্চের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন।
এছাড়া বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টসহ বেশ কিছু ছাত্র ও যুব সংগঠন এই কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছে।
খবরওয়ালা/এমএজেড