খুলনা নগরীতে বিদেশি পিস্তলসহ দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেলে নগরীর বয়রা এলাকার আজিজের মোড়সংলগ্ন হাজী ফয়েজউদ্দিন সংযোগ সড়কে এ অভিযান পরিচালিত হয়। নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলাকালে সন্দেহজনক আচরণের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন হাজী ফয়েজউদ্দিন সংযোগ সড়ক এলাকার বাসিন্দা হাফিজ মোল্লার ছেলে মামুন মোল্লা (৩০) এবং রায়ের মহল বড় মসজিদ এলাকার বাসিন্দা বদরুল আলমের ছেলে লাভলু আহমেদ। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় ওই এলাকায় তিনজন যুবক একসঙ্গে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলছিলেন। টহল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাদের একজন দ্রুত পালিয়ে যায়, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে। এরপরই দুইজনকে থামিয়ে তল্লাশি করা হয়।
তল্লাশির সময় লাভলু আহমেদের কোমর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয় বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরবর্তীতে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, আটক মামুন মোল্লা নিজেকে একটি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় চলাফেরা করতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তার এই পরিচয়ের সত্যতা এবং এর আড়ালে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সোনাডাঙ্গা থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হলে এই সন্দেহজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আটক দুজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অচেনা লোকের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা নিয়ে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
নিম্নে আটক দুই ব্যক্তির প্রাথমিক তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| নাম |
বয়স |
পিতার নাম |
ঠিকানা |
অভিযোগ |
| মামুন মোল্লা |
৩০ বছর |
হাফিজ মোল্লা |
হাজী ফয়েজউদ্দিন সংযোগ সড়ক এলাকা |
সন্দেহজনক কার্যক্রম ও পরিচয় যাচাই চলছে |
| লাভলু আহমেদ |
উল্লেখ নেই |
বদরুল আলম |
রায়ের মহল বড় মসজিদ এলাকা |
বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন বহন |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্রের উৎস, ব্যবহারের উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষ হলে পুরো চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।