চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলো পর্বের ফিরতি লেগে নিউক্যাসলের বিপক্ষে এক দাপুটে প্রদর্শনী উপহার দিয়ে ৭-২ গোলের বিশাল জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। প্রথম লেগে শেষ মুহূর্তে সমতা টেনে নেওয়া দলটি এবার নিজেদের মাঠে আক্রমণের ঝড় তুলে প্রতিপক্ষকে কার্যত অসহায় করে তোলে। দুই লেগ মিলিয়ে ৮-৩ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে নিশ্চিত হয় কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট।
ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল দ্রুতগতির আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। ষষ্ঠ মিনিটেই লামিনে ইয়ামালের তৈরি আক্রমণ থেকে বল পেয়ে রাফিনিয়া নিখুঁত বাঁ-পায়ের শটে গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি বেশিক্ষণ। রক্ষণভাগের ভুলে নবম মিনিটেই অ্যান্টনি ইলাঙ্গা সমতা ফেরান।
এরপর ম্যাচে ছন্দ ফিরে পায় বার্সেলোনা। ফ্রি-কিক থেকে তৈরি হওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে জেরার্ড মার্টিনের সহায়তায় মার্ক বার্নাল ভলিতে গোল করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন। কিন্তু প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে আবারও সমতায় ফেরে নিউক্যাসল। ইয়ামালের একটি ভুল পাস থেকে বল পেয়ে ইলাঙ্গা নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে। রাফিনিয়ার ওপর ফাউলের কারণে পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। লামিনে ইয়ামাল সেই স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে বিরতিতে পাঠান।
দ্বিতীয়ার্ধে যেন একক আধিপত্য বিস্তার করে বার্সেলোনা। ৫১ মিনিটে রাফিনিয়ার নিখুঁত থ্রু পাস থেকে ফারমিন লোপেজ গোল করে ব্যবধান বাড়ান। এরপর অল্প সময়ের ব্যবধানে জোড়া গোল করেন রবার্ট লেভান্ডফস্কি। তার এই দুই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১০৯-এ, যা তাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের কাতারে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
নিউক্যাসলের রক্ষণভাগ তখন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। ৭২ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুল পাস কুড়িয়ে নিয়ে রাফিনিয়া নিজের দ্বিতীয় গোল করেন এবং দলের সপ্তম গোলটি নিশ্চিত করেন। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তার ১৯তম গোল, যা তার ধারাবাহিক পারফরম্যান্সেরই প্রতিফলন।
পুরো ম্যাচে বল দখল, আক্রমণ ও সুযোগ সৃষ্টিতে স্পষ্টভাবে এগিয়ে ছিল বার্সেলোনা। তারা ৬৩ শতাংশ বল দখলে রেখে ১৯টি শট নেয়, যার মধ্যে ১৩টি ছিল লক্ষ্যে। অন্যদিকে নিউক্যাসল ৯টি শট নিয়ে ৬টি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
নিচে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো:
| পরিসংখ্যান | বার্সেলোনা | নিউক্যাসল |
|---|---|---|
| বল দখল | ৬৩ শতাংশ | ৩৭ শতাংশ |
| মোট শট | ১৯ | ৯ |
| লক্ষ্যে শট | ১৩ | ৬ |
| গোল | ৭ | ২ |
এই জয়ের মাধ্যমে বার্সেলোনা শুধু কোয়ার্টার ফাইনালেই উঠেনি, বরং তাদের আক্রমণভাগের শক্তিমত্তা ও দলগত সমন্বয়েরও দারুণ উদাহরণ তুলে ধরেছে। সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করলেও এই দাপুটে জয় নিঃসন্দেহে তাদের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করবে।



