খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গড়ে তোলা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পাঁচটি দেশের সাতটি শহরে অনুসন্ধান চালিয়ে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে জানিয়েছেন সিআইসির মহাপরিচালক আহসান হাবিব।
রবিবার (১৭ আগস্ট) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ও সিআইসি মহাপরিচালক প্রধান উপদেষ্টার সামনে এ তথ্য তুলে ধরেন।
এর পাশাপাশি নয়টি দেশে ৩৫২টি পাসপোর্টের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো টাকার বিনিময়ে অর্জন করেছেন কিছু বাংলাদেশি নাগরিক। দেশগুলো হলো—অ্যান্টিগুয়া অ্যান্ড বারবুডা, অস্ট্রিয়া, ডমিনিকা, গ্রেনেডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, মালটা, সেন্ট লুসিয়া ও তুরস্ক।
এ সময় আহসান হাবিব বলেন, দেশে বসেই বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষে সিআইসির গোয়েন্দারা দেশগুলোতে সরেজমিন পরিদর্শন করে বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আসেন।
তিনি জানান, ‘এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ পাচার করে গড়ে তোলা ৩৪৬টি সম্পত্তির সন্ধান মিলেছে। এটি আমাদের অনুসন্ধানের আংশিক চিত্র।’
সিআইসির মহাপরিচালক আরও বলেন, এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশের অনুকূলে আনার জন্য এবং অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের সাজা নিশ্চিত করতে কাজ করছে সংস্থাটি। এ প্রক্রিয়ায় ছয়টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থা বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি।
আহসান হাবিব বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা যা পেয়েছি, এটি ‘‘টিপ অব দ্য আইসবার্গ’’। আমাদের কাছে এখনো প্রচুর তথ্য রয়েছে, যা উন্মোচনে আরও সময় প্রয়োজন।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেখ হাসিনার আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেটাবেস (সিবিএস) নিয়ন্ত্রণে নিজেদের লোক বসিয়ে বহু তথ্য গায়েব করে দিয়েছিল অর্থ পাচারকারী চক্র। তবে আশার বিষয় হলো, মুছে ফেলা তথ্য উদ্ধারে সক্ষমতা অর্জন করেছে সিআইসি।
বিস্তারিত শোনার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে দুদক, সিআইসি, পুলিশের সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ দেশের সম্পদ লুট করে বিদেশে সম্পত্তি তৈরি করতে না পারে।’
প্রধান উপদেষ্টা সিআইসিকে অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, যতদূর সম্ভব গভীরে যেতে হবে এবং সম্ভাব্য আরও দেশে অনুসন্ধান বিস্তৃত করতে হবে। দেশের সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনতে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপে সরকার সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
দেশের অর্থনৈতিক খাতের এ লুটপাটকে ভয়াবহ দেশদ্রোহিতা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর দেশ গড়তে হলে অবশ্যই এ লুটেরাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সম্পদকে কীভাবে লুটপাট করেছে কিছু মানুষ, তা জাতির সামনে প্রকাশ করতে হবে। সে জন্য সব সংস্থাকে জোটবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’
খবরওয়ালা/এসআই