খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে থাকা দুই ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী এবং তাঁদের সহযোগী কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নাদিরা আক্তার। এ বিষয়ে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন, যা দলীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত ১৩ জানুয়ারি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে পাঠানো চিঠিতে নাদিরা আক্তার অভিযোগ করেন, দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে দুই নেতা এখনো তাঁদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। বরং তাঁরা ভোটারদের কাছে বিএনপির পরিচয় ব্যবহার করে ভোট চাইছেন। এতে সাধারণ ভোটাররা বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং দলের ভেতরে বিভাজন আরও গভীর হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নেমেছেন শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য কামাল জামান মোল্লা এবং জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী। তাঁদের সঙ্গে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন স্থানীয় নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধেও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। নাদিরা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কর্মকাণ্ড দলীয় প্রার্থীর জন্য শুধু বিব্রতকর নয়, বরং নির্বাচনী মাঠে বিএনপির অবস্থান দুর্বল করে দিচ্ছে।
মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে ঘিরে দ্বন্দ্বের পেছনের প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দফায় বিএনপি এই আসনে কামাল জামান মোল্লাকে মনোনয়ন দেয়। পরে মনোনয়নবঞ্চিত সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীর সমর্থকদের আপত্তি ও অসন্তোষের মুখে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়। দ্বিতীয় দফায় দল জেলা বিএনপির সদস্য ও শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিরা আক্তারকে মনোনয়ন দেয়। এই পরিবর্তনই মূলত বর্তমান বিরোধের সূত্রপাত।
অন্যদিকে কামাল জামান মোল্লা দাবি করেছেন, যোগ্যতা ও ত্যাগের ভিত্তিতেই তিনি প্রথমে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তাঁর মতে, একটি প্রভাবশালী পক্ষের ষড়যন্ত্রে তাঁর মনোনয়ন বাতিল করে একজন অজনপ্রিয় প্রার্থীকে সামনে আনা হয়েছে, যা শিবচরের মানুষ মেনে নেয়নি। তাই জনগণের দাবিতেই তিনি নির্বাচনে আছেন বলে তাঁর বক্তব্য। একইভাবে সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকীও কেন্দ্র থেকে ডাক পেলে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং সম্ভাব্য সাংগঠনিক ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে মন্তব্য করেছেন।
এই পরিস্থিতিতে শিবচর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাজাহান মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি। তাঁর অভিযোগ, দলীয় সিদ্ধান্তে স্থানীয় নেতাকর্মীদের অবদান ও জনমতকে যথাযথ সম্মান জানানো হয়নি।
নির্বাচনী মাঠে এই দ্বন্দ্ব বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটারদের আস্থা ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই এখন নজর।
মাদারীপুর-১ আসনের সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও নেতাদের অবস্থান
| নাম | দলীয় পরিচয় | বর্তমান অবস্থান |
|---|---|---|
| নাদিরা আক্তার | বিএনপি (মনোনীত প্রার্থী) | বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়েছেন |
| কামাল জামান মোল্লা | উপজেলা বিএনপি সদস্য | স্বতন্ত্র প্রার্থী |
| সাজ্জাদ হোসেন সিদ্দিকী | জেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক | স্বতন্ত্র প্রার্থী |
| শাজাহান মোল্লা | উপজেলা বিএনপি যুগ্ম আহ্বায়ক | দলীয় সিদ্ধান্তের সমালোচক |
| আজমল হোসেন খানসহ অন্যান্যরা | স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন | বিদ্রোহী প্রার্থীদের সহযোগী |
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই শিবচরের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলেও।