খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাকার ব্যস্ততম হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং এর পার্শ্ববর্তী নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এই এলাকায় হর্ন বাজানোকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিষেধাজ্ঞা কেবল বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতনসহ শহরের অভিজাত এবং সংরক্ষিত এলাকা গুলিতেও এটি কার্যকর থাকবে।
ডিএমপির পক্ষ থেকে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, নীরব এলাকা ঘোষণার মূল লক্ষ্য হলো শহরের কেন্দ্রস্থলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা, শব্দদূষণ কমানো, পরিবেশগত মান উন্নয়ন এবং সাধারণ জনগণের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা। বিশেষ করে বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত হর্ন বাজানো যাত্রী এবং স্থানীয় জনগণের মানসিক চাপ বৃদ্ধি করছে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা এবং এর উত্তর-দক্ষিণে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা (উত্তরা স্কলাস্টিকা স্কুল থেকে হোটেল ‘লা মেরিডিয়ান’ পর্যন্ত) নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষিত হয়েছে।
সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এবং নবপ্রণীত ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০২৫’-এর আওতায়, এই এলাকায় হর্ন বাজানো এক ধরনের গুরুতর দণ্ডনীয় অপরাধ। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, পুলিশকে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আরোপ এবং আইন লঙ্ঘনের জন্য অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।
নিচের টেবিলে নীরব এলাকা, প্রয়োগ বিধি এবং সম্ভাব্য শাস্তি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| এলাকা/নির্দেশ | বিস্তৃতি | প্রযোজ্য আইন | শাস্তি |
|---|---|---|---|
| হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর | উত্তর-দক্ষিণে ১.৫ কিমি | সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮, শব্দদূষণ বিধিমালা-২০২৫ | সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা বা ৩ মাসের কারাদণ্ড, অথবা উভয় |
| গুলশান, বনানী, বারিধারা, নিকেতন | সমানভাবে প্রভাবিত | সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮, শব্দদূষণ বিধিমালা-২০২৫ | সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা জরিমানা বা ৩ মাসের কারাদণ্ড, অথবা উভয় |
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, ঘোষিত নীরব এলাকাগুলোতে ট্রাফিক বিভাগ নিয়মিত তদারকি চালাবে। কেউ আইন লঙ্ঘন করে হর্ন বাজালে তার বিরুদ্ধে কোনও শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না। এছাড়া, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যাত্রীরা আরও নিরাপদ পরিবেশে যাত্রা করতে পারবেন এবং শহরের সাধারণ জনগণ শব্দদূষণ থেকে মুক্তি পাবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শহরের কেন্দ্রে এই ধরনের নীরব এলাকা ঘোষণার মাধ্যমে শহরের পরিবেশগত মান, যাত্রী নিরাপত্তা এবং মানসিক শান্তি বজায় রাখা সম্ভব হবে। প্রশাসনের সতর্কবার্তা হলো–নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো কেবল আইন লঙ্ঘন নয়, এটি সামাজিক দায়িত্ব এবং নৈতিক কর্তব্যও বটে।
ডিএমপি জানিয়েছে, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোও নীরব এলাকা হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া বিবেচনা করা হবে।