খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৯ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আগত একটি যাত্রীবাহী বিমানের কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেট থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের বার উদ্ধার হওয়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের সংখ্যা ১৫৩টি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ৯টা ৮ মিনিটে ঢাকায় অবতরণ করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৩৪৮ ফ্লাইটে এই ঘটনা ঘটে। গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ফ্লাইটটি অবতরণের আগ থেকেই নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ সি-০২-এ ভিড়লে সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা সংস্থা ও এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক)-এর সদস্যরা যৌথভাবে তল্লাশি অভিযান শুরু করেন।
তল্লাশির এক পর্যায়ে কার্গো হোল্ডে অবস্থিত একটি টয়লেটের প্যানেল খুলে দেখা হলে ভেতরে সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় লুকিয়ে রাখা ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, চোরাচালান চক্র অত্যন্ত কৌশলে নজরদারি ফাঁকি দিয়ে এসব স্বর্ণ দেশে আনার চেষ্টা করেছিল। তবে পূর্ব প্রস্তুতি ও গোয়েন্দা নজরদারির কারণে শেষ পর্যন্ত তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক রুটে স্বর্ণ চোরাচালান দীর্ঘদিন ধরেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে স্বর্ণ এনে দেশে পাচারের চেষ্টা প্রায়ই ধরা পড়ে। স্বর্ণের উচ্চ বাজারমূল্য এবং আমদানিতে বিধিনিষেধ থাকায় অসাধু চক্রগুলো এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পন্থা বেছে নেয়।
নিচে উদ্ধারকৃত স্বর্ণ সংক্রান্ত মূল তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ফ্লাইট নম্বর | বিজি-৩৪৮ |
| আগমনের স্থান | দুবাই |
| অবতরণের সময় | রাত ৯:০৮ মিনিট |
| উদ্ধার স্থান | কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেট |
| স্বর্ণের বার সংখ্যা | ১৫৩টি |
| আনুমানিক মূল্য | ৩৮ কোটি টাকা |
| অভিযানে অংশগ্রহণকারী | গোয়েন্দা সংস্থা ও এভসেক |
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করা হয়েছে এবং এ ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। একই সঙ্গে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার এবং বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের চোরাচালান কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।