খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
বিশ্ব সংগীতের মঞ্চে তিনি কেবল এক সুরের জাদুকর নন, বরং একজন সফল উদ্যোক্তা এবং দূরদর্শী ব্যবসায়ী। বিশ্বখ্যাত পপ তারকা বিয়ন্সে নোলস-কার্টার এখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিলিয়নিয়ারদের অভিজাত ক্লাবে নিজের নাম লিখিয়েছেন। বিশ্বখ্যাত ফোর্বস ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সংগীতশিল্পীদের মধ্যে তিনি পঞ্চম ব্যক্তি হিসেবে এক বিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করলেন। বিয়ন্সের আগে এই দুর্লভ তালিকায় স্থান করে নিয়েছেন তাঁর স্বামী জে-জেড, টেইলর সুইফট, ব্রুস স্প্রিংস্টিন এবং রিয়ানা। সংগীত ও ব্যবসায়িক বুদ্ধিমত্তার অসাধারণ মিশেলে তিনি আজ বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী।
বিয়ন্সের এই অভাবনীয় সাফল্যের মূলে রয়েছে তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট’। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি বিয়ন্সের পুরো ক্যারিয়ারের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। সাধারণত অনেক বড় শিল্পী অন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করলেও, বিয়ন্সে তাঁর সংগীত, তথ্যচিত্র এবং কনসার্ট ট্যুরগুলো নিজস্ব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই প্রযোজনা করেন। ফোর্বসের মতে, পার্কউড অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজনার বড় ব্যয় নিজেরাই বহন করে, যাতে লভ্যাংশের সিংহভাগ অন্য কোনো পক্ষকে না দিয়ে নিজেরাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। এই স্বাধীনচেতা ব্যবসায়িক মডেলই তাঁকে অন্য শিল্পীদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মুনাফা অর্জনে সহায়তা করেছে।
নিচে বিয়ন্সের বিলিয়নিয়ার হওয়ার পথে প্রধান আয়ের উৎসগুলো একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| আয়ের উৎস | বিস্তারিত তথ্য ও অর্জিত অর্থ (আনুমানিক) |
|---|---|
| রেনেসাঁ ওয়ার্ল্ড ট্যুর (২০২৩) | বিশ্বব্যাপী প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয় |
| কাউবয় কার্টার ট্যুর (২০২৫) | ৪৫০ মিলিয়ন ডলার (টিকিট ও পণ্য বিক্রয়) |
| নেটফ্লিক্স চুক্তি (হোমকামিং) | আনুমানিক ৬০ মিলিয়ন ডলার |
| এনএফএল হাফটাইম শো (২০২৪) | প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার (একক পারফরম্যান্স) |
| রেনেসাঁ কনসার্ট ফিল্ম | ৪৪ মিলিয়ন ডলার (এএমসি থিয়েটার পরিবেশনা) |
| বার্ষিক আয় (২০২৫) | ১৪৮ মিলিয়ন ডলার (কর-পূর্ববর্তী আয়) |
গত কয়েক বছরে বিয়ন্সে একের পর এক বড় প্রজেক্টে হাত দিয়ে নিজের সম্পদ বৃদ্ধি করেছেন। ২০২৩ সালে তাঁর ‘রেনেসাঁ ওয়ার্ল্ড ট্যুর’ বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে। এরপর ২০২৪ সালে তিনি কান্ট্রি ঘরানার অ্যালবাম ‘কাউবয় কার্টার’ প্রকাশ করেন, যা ২০২৫ সালে বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী কনসার্ট ট্যুরের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। শুধু ২০২৫ সালেই কনসার্ট ট্যুর, সংগীত ক্যাটালগ এবং বিভিন্ন গ্লোবাল ব্র্যান্ডের সাথে চুক্তি মিলিয়ে তিনি প্রায় ১৪৮ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এর ফলে তিনি ২০২৫ সালে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত সংগীতশিল্পীর মর্যাদা পান।
সংগীতের পাশাপাশি স্ট্রিমিং জায়ান্ট এবং বড় স্পোর্টস ইভেন্টগুলো বিয়ন্সেকে বিপুল অর্থ প্রদান করেছে। ২০১৯ সালে নেটফ্লিক্সের সাথে তাঁর তথ্যচিত্র ‘হোমকামিং’-এর জন্য ৬০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি এবং ২০২৪ সালে নেটফ্লিক্সের প্রথম ক্রিসমাস ডে এনএফএল হাফটাইম শোতে মাত্র কয়েক মিনিটের পারফরম্যান্সের জন্য ৫০ মিলিয়ন ডলার প্রাপ্তি তাঁর আকাশচুম্বী চাহিদারই প্রমাণ। এ ছাড়া তাঁর ‘রেনেসাঁ কনসার্ট ফিল্ম’ থেকে আসা লভ্যাংশও তাঁর ঝুলিকে সমৃদ্ধ করেছে।
বিয়ন্সে প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম আর শিল্পীসত্তার সাথে যদি সঠিক ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা যুক্ত হয়, তবে সাফল্যের উচ্চতা ধরা দেয় অনায়াসেই। তিনি এখন কেবল একজন গায়িকা নন, বরং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের অনুপ্রেরণা এবং এক বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যের অধিপতি।