খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: শনিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৫
বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের চিকিৎসকদের জন্য বড় সুখবর আসছে। সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ বাড়াতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ৩ হাজার ৩০টি সংখ্যাতিরিক্ত (সুপারনিউমারারি) পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে।
আগামীকাল রবিবার (২৭ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য প্রশাসনিক উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উত্থাপনের কথা রয়েছে। নতুনভাবে সৃষ্ট এসব পদের মধ্যে রয়েছে, অধ্যাপকের ১৫০টি, সহযোগী অধ্যাপকের ৮৫০ ও সহকারী অধ্যাপকের ২ হাজার ৩০টি পদ থাকবে।
সচিব কমিটিতে পাঠানো স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে পর্যাপ্ত স্থায়ী পদ না থাকায় অনেক চিকিৎসক মেডিকেল অফিসারের পদ থেকেই অবসর নিচ্ছেন। এতে চিকিৎসা শিক্ষা ও সেবা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নতুন এই সংখ্যাতিরিক্ত পদগুলো স্বাস্থ্য শিক্ষা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার গুণগত মান বাড়াবে এবং চিকিৎসকদের পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন শ্রেণিতে চিকিৎসকদের জন্য ৩৬ হাজার ৯২১টি ক্যাডার পদ রয়েছে। সহকারী অধ্যাপকের পদ রয়েছে ৩ হাজার ৫৯টি। এ ছাড়া সহযোগী অধ্যাপকের ১ হাজার ৯৬০ ও অধ্যাপকের ১ হাজার ৫৯টি পদ রয়েছে। অর্থাৎ বিসিএস পাসের পর চিকিৎসক হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়ে ৬ হাজার ৭৮ জন কর্মকর্তার মেডিকেল অফিসার থেকে ওপরের ওই ধাপগুলোতে পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। নতুন ৩ হাজার ৩০টি পদ সৃষ্টি হলে ৯ হাজার ১০৮ চিকিৎসকের পদোন্নতির সুযোগ তৈরি হবে।
সূত্র জানায়, চিকিৎসকদের পদোন্নতির জন্য সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকের সংখ্যাতিরিক্ত পদ সৃষ্টির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রথম পর্যায়ে এক বছরের জন্য অস্থায়ীভাবে রাজস্ব খাতে ৩ হাজার ৩০টি পদ সৃষ্টির সম্মতি দিয়েছে। এরপর অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগও শর্তসাপেক্ষে সম্মত হয়েছে এতে। এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের বেতন গ্রেড ভেটিংও নিয়েছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, সংখ্যাতিরিক্ত পদে পদোন্নতিযোগ্য চিকিৎসকেরা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। ফলে নতুন ৩ হাজার ৩০টি পদ সৃষ্টি করে তাঁদের পদোন্নতি দিলেও সরকারের বাড়তি কোনো খরচ হবে না।
‘মহিলা’ শব্দ বাদ, আসছে ‘নারী’
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নামসহ সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর, সংস্থা এবং কর্মকর্তার পদবি থেকে ‘মহিলা’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘নারী’ শব্দ যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ প্রস্তাবটিও রোববারের সচিব কমিটির সভায় উত্থাপন করা হবে।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়টির নাম পরিবর্তন করে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় করার প্রস্তাব করা হয়। এরপর গত বছরের ৭ জুলাই তৎকালীন প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা এবং গত ২৭ অক্টোবর মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টার সভাপতিত্বে দ্বিতীয় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংস্থার নাম এবং কর্মকর্তার পদবির ক্ষেত্রে ‘নারী’ দিয়ে ‘মহিলা’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করার সিদ্ধান্ত হয়।
নারী অধিকারকর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল ‘মহিলা’ শব্দটি সময়োপযোগী নয় এবং জেন্ডার-সচেতনতার দিক থেকে এটি পরিত্যাজ্য।
১৯৮৯ সালে সমাজকল্যাণ ও মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে ভাগ করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়—এ দুটি মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়। ১৯৯৪ সালে শিশুবিষয়ক কার্যক্রম সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে স্থানান্তর করে মহিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অন্তর্ভুক্তির পর এর নামকরণ করা হয় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
আরও কিছু পদ সৃষ্টির প্রস্তাব
সচিব কমিটির একই বৈঠকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ সৃষ্টির প্রস্তাব উত্থাপনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
খবরওয়ালা/এসআর