খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত বোর্ডে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজশাহী বিভাগের কাউন্সিলর মীর শাকরুল আলম সীমান্ত। পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে তিনি বিসিবির দায়িত্ব গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
মীর সীমান্ত বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ছেলে। মীর শাহে আলম মন্ত্রিসভার দায়িত্ব নেওয়ার পর পারিবারিক ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব মূলত সীমান্তের ওপর বর্তায়। এ কারণে বর্তমানে তিনি একাধিক শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় সরাসরি যুক্ত রয়েছেন।
জানা গেছে, সীমান্ত বর্তমানে একাধিক ফিলিং স্টেশন, অটো রাইস মিল, পুষ্টি চালের কার্নেল ফ্যাক্টরি, আয়োডিন ফ্যাক্টরি, পুষ্টি মিশ্রণ ফ্যাক্টরি, মিনি কোল্ড স্টোরেজ, কৃষি খামার, প্রাণী খামার এবং ফ্লাওয়ার মিলসহ আরও কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক তদারকি করছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম, ব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব তার ওপর থাকায় বিসিবির মতো বড় প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার বিষয়টি কঠিন হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করছেন।
এ প্রসঙ্গে মীর সীমান্ত বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় পরিসরের দায়িত্বের জায়গা। একই সময়ে পারিবারিক ব্যবসার পূর্ণ দায়িত্বও বর্তমানে তার ওপর রয়েছে। সবকিছু একসঙ্গে সমন্বয় করে ক্রিকেট বোর্ডে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলেই তিনি বাস্তবতা বিবেচনায় বিসিবিতে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তবে বিসিবির দায়িত্ব গ্রহণ না করলেও দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন তিনি। সীমান্ত বলেন, একজন ক্রীড়া সংগঠক ও ব্যবসায়ী হিসেবে ক্রিকেটসহ দেশের সব ধরনের খেলাধুলার উন্নয়ন ও বিকাশে তিনি ভবিষ্যতেও পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন।
তিনি আরও জানিয়েছেন, বিসিবিতে দায়িত্ব গ্রহণ না করার বিষয়টি শিগগিরই বোর্ডের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি Tamim Iqbal–কে লিখিতভাবে জানানো হবে। বিসিবির সাম্প্রতিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে অ্যাডহক কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বোর্ডকে অবহিত করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানা গেছে।
ক্রিকেটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, তরুণ সংগঠক হিসেবে মীর সীমান্তের বিসিবিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে রাজশাহী বিভাগের ক্রিকেট অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ব্যবসায়িক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা থাকায় তাকে নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রত্যাশাও ছিল। তবে পারিবারিক ও ব্যবসায়িক দায়বদ্ধতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিসিবির দায়িত্ব গ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে অনেকে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সর্বোচ্চ সংস্থা হিসেবে জাতীয় দল পরিচালনা, ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্রিকেট উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ফলে বোর্ডের পরিচালক পদকে সময় ও মনোযোগের দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই বাস্তবতায় দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিবেচনা করেই মীর সীমান্ত বিসিবিতে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।