খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নারী ফুটবল লিগের শেষ রাউন্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিপক্ষে ৩–০ গোলের জয়ে ইতিহাস গড়েছে রাজশাহী স্টারস। শিরোপা নিশ্চিত করতে যেখানে তাদের প্রয়োজন ছিল মাত্র এক পয়েন্ট, সেখানে প্লে-অফে টিকে থাকতে সেনাবাহিনীর সামনে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না। এমন চাপের ম্যাচেও রাজশাহী স্টারস নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে নির্ভার পারফরম্যান্সে চ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠ ছাড়ে। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমার্ধে দুই দলই সতর্ক কৌশলে খেলায় গোলশূন্য বিরতিতে যায়। বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়ায় রাজশাহী স্টারস এবং ধারাবাহিক আক্রমণে ম্যাচের রং বদলে দেয়।
৪৮তম মিনিটে সুরভী আকন্দ প্রীতির নিখুঁত আড়াআড়ি পাসে ফাঁকা পোস্টে বল ঠেলে দেন আলপি আক্তার। এই গোলের মাধ্যমে চলতি লিগে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৩০—যা আসরের সর্বোচ্চ। ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের শামসুন নাহার জুনিয়রের (২৪) চেয়ে এগিয়ে গিয়ে গোলদৌড়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেন আলপি। ৫৮তম মিনিটে ঋতুপর্ণা চাকমার ক্রসে ভলিতে জাল কাঁপান শাহেদা আক্তার রিপা। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে নিজের নামও স্কোরশিটে তুলে নিয়ে জয় সুনিশ্চিত করেন ঋতুপর্ণা চাকমা। এই ম্যাচের মাধ্যমে রিপা ও ঋতুপর্ণা—দুজনেই দুই অঙ্কের গোলসংখ্যায় পৌঁছান (১০ করে)।
প্রথমবার অংশগ্রহণ করেই শিরোপা জেতা রাজশাহী স্টারসের কৃতিত্ব কেবল ফলাফলে নয়, পরিসংখ্যানেও অভূতপূর্ব। ১০ ম্যাচের ১০টিতেই জয়, ১০ ম্যাচেই ক্লিনশিট, কোনো গোল হজম না করে ৯০ গোল—ম্যাচপ্রতি গড় গোল ৯! এমন নিখুঁত রক্ষণভাগ ও বিধ্বংসী আক্রমণের সমন্বয় নারী ফুটবল লিগের ইতিহাসে বিরল। আগের মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে ১২–০ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে অভিযান শুরু করে রাজশাহী। এরপর বিকেএসপি, বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ আনসার, জামালপুর কাচারিপাড়া একাদশ, ঢাকা রেঞ্জার্স, ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব, সিরাজ স্মৃতি সংসদ ও সদ্যপুস্করণী—সবাইকে পরাজিত করে একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েম করে দলটি।
শেষ রাউন্ডে বাংলাদেশ আনসারকে হারানো ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব রানার্সআপ হয়। ১০ ম্যাচে একমাত্র হারটি তাদের চ্যাম্পিয়ন রাজশাহীর বিপক্ষেই (১–০)। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শেষ করে তৃতীয় স্থানে। শিরোপা জয়ের সুবাদে রাজশাহী স্টারস এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও সাফ ক্লাব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করেছে। এএফসি স্বীকৃত কাঠামোর ঘাটতির কারণে এতদিন বাংলাদেশের নারী ক্লাবগুলো মহাদেশীয় আসরে নিয়মিত সুযোগ পায়নি; ফলে দেশের অনেক শীর্ষ খেলোয়াড়কে ভিন্ন দেশের ক্লাবে খেলে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়েছে। রাজশাহী স্টারসের এই সাফল্য সেই বঞ্চনার অধ্যায় কাটিয়ে নতুন পথ খুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজশাহী স্টারসের লিগ পারফরম্যান্স (সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান)
| সূচক | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট ম্যাচ | ১০ |
| জয় | ১০ |
| ড্র | ০ |
| হার | ০ |
| গোল করেছে | ৯০ |
| গোল হজম | ০ |
| ক্লিনশিট | ১০ |
| ম্যাচপ্রতি গড় গোল | ৯.০ |
| সর্বোচ্চ গোলদাতা (আলপি) | ৩০ |
| দলীয় দুই অঙ্কে গোলদাতা | ২ জন |
এই শিরোপা শুধু একটি ট্রফি নয়; এটি প্রমাণ করে যে পরিকল্পিত বিনিয়োগ, বয়সভিত্তিক উন্নয়ন ও মানসম্মত কোচিং থাকলে স্বল্প সময়ে একটি নতুন ক্লাবও দেশের নারী ফুটবলে মানদণ্ড স্থাপন করতে পারে।