খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
দেশের বীমাশিল্প বর্তমানে গুরুতর সংকটে রয়েছে। প্রধানত পাঁচটি জীবন বীমা কোম্পানির অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে পুরো খাতের ওপর আস্থা কমে গেছে। দেশে মোট ৩৬টি জীবন বীমা কোম্পানির অনিষ্পত্তি বীমা দাবির পরিমাণ ৪ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মাত্র পাঁচটি কোম্পানির অনিষ্পত্তি দাবি ৩ হাজার ৮২৯ কোটি টাকা, অর্থাৎ মোট দাবির ৮৭ শতাংশই এই পাঁচ কোম্পানির।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই চার থেকে পাঁচটি কোম্পানির অব্যবস্থাপনা সমগ্র বীমা খাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আইডিআরএ (ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি) রাজনৈতিক ও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে বড় ধরনের ব্যবস্থা নিতে পারছে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক চর্চা ও অভিজ্ঞতা অনুসারে সমস্যার সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গ্রাহকের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করতে কোম্পানিগুলোকে তাদের স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করতে হবে।
আইডিআরএর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে জীবন ও সাধারণ বীমায় মোট অনিষ্পত্তি দাবি ৭ হাজার ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে জীবন বীমায় অনিষ্পত্তি ৪ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা এবং সাধারণ বীমায় ২ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা।
নিম্নের টেবিলে মূল ৫ কোম্পানির বীমা দাবি পরিশোধের হারের বিস্তারিত দেওয়া হলো:
| কোম্পানি | অনিষ্পত্তি দাবি (কোটি টাকা) | পরিশোধিত দাবি (কোটি টাকা) | পরিশোধের হার (%) | বাকি দাবি (কোটি টাকা) |
|---|---|---|---|---|
| ফারইস্ট ইসলামী লাইফ | ২,৭৫২ | ১৯৪ | ৬.৫৯ | ২,৫৫৮ |
| সানফ্লাওয়ার লাইফ | ৫৯৮ | ১২ | ২ | ৫৮৬ |
| পদ্মা ইসলামী লাইফ | ২৪৯ | ১০ | ৪ | ২৪৯ |
| বায়রা লাইফ | ৭৭.৬৬ | ৫.৪ | ৭ | ৭২.৬৬ |
| প্রগ্রেসিভ লাইফ | ১৬৫ | ২৮ | ১৭ | ১৩৭ |
অন্যদিকে, ১০টি কোম্পানি ৯৯ শতাংশের বেশি বীমা দাবি পরিশোধ করেছে। এগুলোর মধ্যে আলফা ইসলামিক লাইফ, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, সোনালী লাইফ, মার্কেন্টাইল, সন্ধানী, মেঘনা ও রূপালী লাইফ ইনস্যুরেন্স অন্তর্ভুক্ত।
আইডিআরএ উপ-পরিচালক মো. সোলায়মান বলেন, “কোম্পানিগুলো যাতে গ্রাহকের দাবি দ্রুত নিষ্পত্তি করে, তার ওপর আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। যারা ব্যর্থ হবে, তাদের স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করে দাবির পরিশোধ নিশ্চিত করা হবে।”
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, “বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় বিষয়। মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আইডিআরএকে আন্তর্জাতিক চর্চা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে খাতের কার্যকারিতা ও কোম্পানির সংখ্যা পুনঃমূল্যায়নের সময় এসেছে।”
সংক্ষেপে, দেশের বীমাশিল্পের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ, বিশেষত দুর্নীতিপ্রবণ কোম্পানির স্থায়ী সম্পদ বিক্রি করে গ্রাহকের দাবি পরিশোধ, অপরিহার্য। অন্যথায়, খাতের ওপর মানুষের আস্থা কমতে থাকবে, যা দেশের অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করবে।