খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
কাতারের রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। বিশেষত পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতের এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি এই স্থাপনার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
রাস লাফান স্থাপনায় প্রায় সব প্রাকৃতিক গ্যাস প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং সেখান থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়। জ্বালানি খাতের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্যানুযায়ী, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ তাদের এলএনজি চাহিদার যথাক্রমে ৯৯ শতাংশ এবং ৭০ শতাংশ কাতার থেকে সংগ্রহ করে। অন্যদিকে, ভারতের এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশেরও বেশি আসে কাতার থেকে, যা বাজার গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল’-এর তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।
ইরান ও কাতারের এই সংঘাতের তিন সপ্তাহের মধ্যেই শুধু গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানির পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়নি, বরং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলএনজি স্থাপনাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। রাস লাফান স্থাপনার পরিচালক জানিয়েছেন, চলতি মাসের শুরুতে এলএনজি ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন ইতিমধ্যেই স্থগিত ছিল। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে স্বাভাবিক উৎপাদনে ফেরার সময় আরও দীর্ঘ হতেনমাধম
গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের নিজস্ব এলএনজি মজুত সীমিত; যা মাত্র এক থেকে দুই সপ্তাহের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। এর ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং শিল্পখাতের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পূর্ব এশিয়ার তাইওয়ানও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দেশটি তাদের এলএনজি চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কাতার থেকে আমদানি করে এবং বর্তমানে মাত্র ১১ দিনের মজুত রয়েছে। তবে তাইপে জানিয়েছে, মার্চ ও এপ্রিলের জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং মে মাসের জন্য যোগান ঠিক করতে কাজ চলছে।
কেপলার আরও জানায়, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানেও কাতার থেকে বিপুল পরিমাণ এলএনজি সরবরাহ করা হয়। তবে এই দেশগুলোর মজুত তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় তারা বর্তমানে পরিস্থিতি সামলাতে সক্ষম। বিশেষ করে চীনের আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় হওয়ায় দেশটি এই ধরণের সরবরাহ বিঘ্ন মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।
| দেশ | এলএনজি চাহিদার কাতার অংশ (%) | নিজস্ব মজুত (দিন) | ঝুঁকির মাত্রা |
|---|---|---|---|
| পাকিস্তান | ৯৯% | ৭-১৪ দিন | উচ্চ |
| বাংলাদেশ | ৭০% | ৭-১৪ দিন | উচ্চ |
| ভারত | ৪০%+ | ১৫-২০ দিন | মাঝারি |
| তাইওয়ান | ৩৩% | ১১ দিন | উচ্চ |
| চীন | ৩০%+ | ৩০+ দিন | কম |
| দক্ষিণ কোরিয়া | ৩৫%+ | ২৫+ দিন | কম |
| জাপান | ৩৫%+ | ২০+ দিন | কম |
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো কাতারের এলএনজি সরবরাহ পুনরায় সচল হওয়ার জন্য তৎপর এবং বিকল্প উৎস খুঁজে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। তবে সাম্প্রতিক হামলার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।