খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে মাঘ ১৪৩২ | ৩১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
অস্ট্রেলিয়ার সুবিশাল এবং বন্ধুর ভূখণ্ড অতিক্রম করা যেকোনো অভিযাত্রীর জন্যই এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুললেন মার্কিন অশ্বারোহী জিন জ্যাগোলা। কোনো অত্যাধুনিক যানবাহন নয়, বরং একটি বুনো ঘোড়ার পিঠে চড়ে তিনি পাড়ি দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব উপকূল থেকে পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত প্রায় ৪,৪০০ কিলোমিটার পথ। ২৫ বছর বয়সী এই তরুণীর অদম্য সাহস এবং তাঁর ঘোড়া ‘ফ্যাবল’-এর সহনশীলতার গল্প এখন বিশ্বজুড়ে চর্চিত হচ্ছে।
এই অভিযানের সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো জ্যাগোলার সঙ্গী ফ্যাবল। এটি কোনো সাধারণ প্রশিক্ষিত ঘোড়া নয়, বরং অস্ট্রেলিয়ার কোসচিউসকো ন্যাশনাল পার্কের একটি ‘ব্রাম্বি’ বা বুনো ঘোড়া। অস্ট্রেলিয়ায় এই বুনো ঘোড়াগুলো অত্যন্ত স্বাধীনচেতা এবং শক্তিশালী হিসেবে পরিচিত। ভিক্টোরিয়ান ব্রাম্বি অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে ফ্যাবলকে দত্তক নেন জ্যাগোলা। শুরুতে ফ্যাবল পুরোপুরি বুনো আচরণ করলেও জ্যাগোলার ধৈর্য এবং তিন মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ তাকে এক বিশ্বস্ত সাথিতে পরিণত করে।
গত বছরের ২০ মে নিউ সাউথ ওয়েলসের ট্যাথরা শহর থেকে জ্যাগোলার এই দীর্ঘ যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ আট মাস ধরে তিনি ভিক্টোরিয়া ও সাউথ অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় পথ এবং বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সরল পথ নুলারবোর সমভূমি অতিক্রম করেন। নিচে জ্যাগোলার এই অবিশ্বাস্য যাত্রার সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
| অভিযাত্রীর নাম | জিন জ্যাগোলা (বয়স: ২৫ বছর) |
| জন্মস্থান | পেনসিলভানিয়া, যুক্তরাষ্ট্র |
| ঘোড়ার নাম ও ধরণ | ফ্যাবল (বুনো ব্রাম্বি ঘোড়া) |
| যাত্রার শুরু | ২০ মে, ট্যাথরা, নিউ সাউথ ওয়েলস |
| যাত্রার শেষ | ফরেস্ট বিচ, বুসেলটন (পার্থের কাছে) |
| মোট দূরত্ব | প্রায় ৪,৪০০ কিলোমিটার (২,৭০০ মাইল) |
| সময়কাল | দীর্ঘ ৮ মাস |
| দৈনিক গড় গতি | প্রায় ৩২ কিলোমিটার |
জিন জ্যাগোলা এই দীর্ঘ যাত্রায় নিজের চেয়েও তাঁর ঘোড়া ফ্যাবলের স্বাস্থ্যের দিকে বেশি নজর দিয়েছেন। বুনো ঘোড়ার পিঠে চড়ে মহাদেশ পাড়ি দেওয়ার সময় তিনি একটি কঠোর নিয়ম মেনে চলতেন। প্রতি এক ঘণ্টা অশ্বারোহনের পর তিনি ১০ মিনিটের বিরতি নিতেন। ফ্যাবলের পিঠের ধকল কমাতে দিনের মোট সময়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পথ জ্যাগোলা নিজে হেঁটে পাড়ি দিয়েছেন। রাতেও তিনি আলাদা কোনো আরামদায়ক স্থানে না থেকে কেবল একটি তাঁবু আর স্যাডল ম্যাট নিয়ে তাঁর প্রিয় ঘোড়াটির পাশেই ঘুমাতেন।
এই যাত্রার সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ নুলারবোর সমভূমি। গাছপালাহীন এই জনশূন্য মরুপ্রায় অঞ্চলে টিকে থাকা ছিল এক বিশাল পরীক্ষা। জ্যাগোলা জানান, শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার প্রকৃতি সম্পর্কে তাঁর ধারণা কম থাকলেও ফ্যাবলের ওপর অগাধ বিশ্বাস তাঁকে সাহস জুগিয়েছে।
অবশেষে ২০ জানুয়ারি জিন জ্যাগোলা এবং ফ্যাবল পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার বুসেলটনের ফরেস্ট বিচে পৌঁছানোর মাধ্যমে তাঁদের এই মহাকাব্যিক অভিযান শেষ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি অত্যন্ত আবেগপূর্ণ ভাষায় জানান যে, কোনো ঘোড়ার পিঠে চড়ে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ অতিক্রম করা সম্ভবত তিনিই প্রথম ব্যক্তি। নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি সত্যিই এই বুনো ঘোড়াদের প্রেমে পড়ে গেছি। ফ্যাবল আমার চিরসত্য ও সাহসী সাথি।”
যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া থেকে আসা এই তরুণী এর আগে নিজের দেশেও ঘোড়ায় চড়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন, তবে অস্ট্রেলিয়ার এই যাত্রা তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।