খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ১ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
একজন সরকারি কেরানি। মাসিক বেতন মাত্র ১৫ হাজার। অথচ তার নামে রয়েছে ২৪টি বাড়ি, ৪০ একর কৃষিজমি, চারটি দামি গাড়ি, ৩৫০ গ্রাম সোনা, দেড় কেজি রূপা!
এমন অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে ভারতের কর্ণাটকে। অভিযুক্ত সাবেক কেরানির নাম কেলাকাপ্পা নিদাগুন্ডি। তিনি কর্ণাটক রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড (কেআরআইডিএল)-এ কর্মরত ছিলেন কপ্পাল জেলায়।
শুক্রবার (১ আগস্ট) বেঙ্গালুরুতে তার বাসভবনে হানা দেয় কর্ণাটক লোকায়ুক্তর বিশেষ টিম। তল্লাশি চালিয়ে একে একে বেরিয়ে আসে সম্পদের পাহাড়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই বিপুল সম্পদের বেশিরভাগই তার নিজের, স্ত্রীর এবং স্ত্রীর ভাইয়ের নামে।
তদন্তে উঠে এসেছে, নিদাগুন্ডি একা নন—তাকে সহযোগিতা করেছেন কেআরআইডিএলের এক সাবেক প্রকৌশলী জেড এম চিনচোলকার। তারা মিলে ভুয়া নথির মাধ্যমে ৯৬টি অসমাপ্ত সরকারি প্রকল্পের নামে অন্তত ৭২ কোটি রুপি আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় লোকায়ুক্ত দপ্তরের সূত্র জানিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরেই রাজ্যজুড়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একাধিক অভিযান চালানো হচ্ছে।
শুধু কেলাকাপ্পার বাড়িই নয়, গত ২৩ জুলাই লোকায়ুক্তের কর্মকর্তারা হানা দেন রাজ্যের আরও ৪১টি স্থানে। অভিযানে উঠে আসে আরও ভয়াবহ চিত্র—৮ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ৩৭ কোটির সম্পদ জড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে। যাদের মধ্যে রয়েছেন এক জন আইএএস কর্মকর্তা—বাসন্তী আমর। তিনি রেলওয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন সংস্থা ‘কে-রাইড’-এ বিশেষ উপকমিশনার ছিলেন এবং বেঙ্গালুরু শহরতলির রেল প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন। লোকায়ুক্তর কর্মকর্তারা বাসন্তীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি স্থানে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করেন তিনটি জমি, চারটি বাড়ি, তিন একর কৃষিজমি, ১২ লাখ রুপির গয়না ও ৯০ লাখ টাকার গাড়ি। সব মিলিয়ে ৯.০৩ কোটি রুপির সম্পদের হদিস মেলে তার কাছে।
এছাড়া ২৯ জুলাই হাসান, চিক্কাবালাপুরা, চিত্রদুর্গ এবং বেঙ্গালুরু জেলায় আরও পাঁচজন কর্মকর্তার বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন—এনএইচএআই’র নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ান্না আর, পল্লী পয়নিষ্কাশন বিভাগের জুনিয়র প্রকৌশলী অঞ্জনেয় মূর্তি, হিরিয়ুর তালুক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ড. ভেঙ্কটেশ, বিবিএমপি দাসরাহাল্লির রাজস্ব কর্মকর্তা ভেঙ্কটেশ এবং বিডিএ’র সহকারী উদ্যান পরিচালক ওমপ্রকাশ।
প্রশ্ন উঠছে—মাত্র ১৫ হাজার টাকা বেতনের একজন সাধারণ কেরানির পক্ষে এত সম্পদ অর্জন সম্ভব কীভাবে? সরকারি তহবিলের সঙ্গে জালিয়াতির পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র ধরে এসব দুর্নীতির অভিযোগ উঠছে। তদন্তে নেমেছে লোকায়ুক্তর বিশেষ তদন্ত দল। জনগণের করের টাকায় পরিচালিত প্রকল্প থেকে এভাবে অর্থ আত্মসাৎ শুধু বিশ্বাসঘাতকতাই নয়, এটা প্রশাসনিক ব্যর্থতারও প্রতিচ্ছবি।
খবরওয়ালা/এন